প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, জাদুঘর উদ্বোধনের পরদিনই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন এশিয়া সফর এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরেছে পিয়ংইয়ং। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র নিয়ে তৈরি একটি সামরিক […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, জাদুঘর উদ্বোধনের পরদিনই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন এশিয়া সফর এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরেছে পিয়ংইয়ং। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র নিয়ে তৈরি একটি সামরিক জাদুঘর উদ্বোধন করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ খবর জানিয়েছে।
নতুন এই জাদুঘরে কিমের শাসনামলে তৈরি বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আধুনিক ড্রোন থেকে শুরু করে সর্বাধুনিক ‘হওয়াসং-২০’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, গত রোববার ডিফেন্স রেভোলিউশন মিউজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্ত্রী রি সোল জু ও কন্যা জু অ্যাকে নিয়ে লালগালিচা দিয়ে হেঁটে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন কিম জং উন।
জাদুঘরে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ‘হওয়াসং-২০’ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটির লঞ্চারের সামনে রাখা বিশ্বমানচিত্র ও গ্রাফিকসে এর সম্ভাব্য বিস্তৃত পাল্লার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এসব উপস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলও দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রটিতে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শিন জং-উর মতে, এই প্রদর্শনী কেবল সামরিক সরঞ্জাম দেখানোর আয়োজন নয়। সম্ভাব্য উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে নিজেদের অবস্থান জোরালো করা এবং ট্রাম্পকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবেও একে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল মনে করেন, অস্থায়ী প্রদর্শনীগুলোকে স্থায়ী জাদুঘরে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে কিম জং উন তাঁর শাসনামলের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অর্জনকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
সামরিক জাদুঘর উদ্বোধনের পরদিন সোমবার উত্তর কোরিয়া আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পূর্ব সাগরে উত্তর কোরিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর এক মাসের ব্যবধানে এটি উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
ট্রাম্পের আসন্ন এশিয়া সফর এবং কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার এই ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।