সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:১৩ অপরাহ্ন, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, প্রাণ গেল ৫০ হাজারের বেশি মানুষের

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। গবেষকদের ধারণা, তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী সময় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ […]

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, প্রাণ গেল ৫০ হাজারের বেশি মানুষের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। গবেষকদের ধারণা, তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী সময় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

গবেষণার অন্যতম লেখক এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর দিক থেকে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চলের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই গবেষণার তথ্য সামনে এলো। এর আগে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

ক্লেয়ার বার্নসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রভাবগুলো এড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সরকারগুলোকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপ দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে মহাদেশটিতে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলা অস্বাভাবিক গরমে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল। কোনো কোনো দেশে নির্দিষ্ট কিছু দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যায়।

গবেষকেরা বলছেন, তাপপ্রবাহে মৃত্যুর ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে তাপপ্রবাহজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারজনিত দূষণকে দায়ী করা হতো। বর্তমানে সেই হার বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাকেল নুনেস বলেন, তাপপ্রবাহ কতটা ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটাতে পারে, নতুন গবেষণাটি তার প্রমাণ তুলে ধরেছে। তাপজনিত মৃত্যুর অনেক ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না। এ কারণে তাপপ্রবাহকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

অধ্যাপক নুনেস আরও বলেন, গবেষণার একটি উদ্বেগজনক দিক হলো কম বয়সী মানুষের প্রাণহানি। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের গ্রীষ্মে ৬৫ বছরের কম বয়সী হাজার হাজার মানুষ তীব্র গরমের কারণে মারা গেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা বাড়তে থাকায় ইউরোপে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের মতে, তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে দ্রুত জলবায়ু পদক্ষেপের পাশাপাশি চরম গরম মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

সূত্র: সিএনএন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ