সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৫৯ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে: বারাক ওবামা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলেছে। তাঁর দাবি, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্ররা হামলার শিকার হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন মার্কিন সেনারা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব বেড়েছে। বুধবার (২৮ […]

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে: বারাক ওবামা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলেছে। তাঁর দাবি, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্ররা হামলার শিকার হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন মার্কিন সেনারা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব বেড়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার উপশহর মোরোতে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এক প্রচার সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবামা। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সিনেটর জন অসফের পক্ষে প্রচার চালানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির সমালোচনা করেন।

ওবামা বলেন, ‘আমাদের মিত্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা হয়েছে। আমেরিকানরা নিহত হয়েছেন, শত শত মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে, যা আমাদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আর হরমুজ প্রণালির ওপর এখন ইরানের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।’

তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়ে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনের জন্য, ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার সামরিক অভিযান পরিচালনায় এবং প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ওবামা তাঁর বক্তব্যে নিজের প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, তাঁর সময়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করা হয়েছিল এবং এর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয়নি। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে সম্মত হয়েছিল, বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ছিল।

২০১৮ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ওবামা বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কূটনীতির পরিবর্তে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

ইরানের বিরুদ্ধে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুরোপুরি চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে জর্জিয়ায় প্রচারে গিয়ে ওবামা যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনী আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সূত্র: সিএনএন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা ও প্রেস টিভি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ