সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:২২ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় হলে ইরানে বড় হামলার অনুমতি দিতে পারেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে ইরানের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান চালানোর অনুমোদন দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, নির্বাচনে খারাপ ফলের কারণে […]

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় হলে ইরানে বড় হামলার অনুমতি দিতে পারেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে ইরানের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান চালানোর অনুমোদন দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, নির্বাচনে খারাপ ফলের কারণে ট্রাম্প নিজেকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রত বা বঞ্চিত মনে করলে বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন। ওই কর্মকর্তার মতে, ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ এখনই।

তবে ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের ফলের ওপর ভিত্তি করে ইরান বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে না।

কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরুর উদ্যোগ

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আবারও শুরু করতে উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করেন। এ সময় তাঁরা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।

এক কূটনৈতিক সূত্র আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ কথা জানিয়েছে। শনিবার দোহায় আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।

তবে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শর্তের কারণে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ফিরতে হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে তেহরানের দাবি, আলোচনায় ফেরার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং ইরানের তেল বিক্রির সুযোগ দিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ইরানকে বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। এর বিনিময়ে সীমিত পরিসরে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনে ইরান নীতি নিয়ে মতপার্থক্য

ইরান বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান। তাঁরা ইরানের নেতৃত্বকে আরও দুর্বল করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর পুরো অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের ফলাফল ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি মূল প্রতিবেদন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ