সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৩:৩৩ অপরাহ্ন, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মিশিগানে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সাঈদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল এল-সাঈদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবারের নির্বাচনে তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি দলটির দখলেই থাকল। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এল-সাঈদকে বিজয়ী ঘোষণা […]

মিশিগানে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সাঈদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল এল-সাঈদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবারের নির্বাচনে তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি দলটির দখলেই থাকল।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এল-সাঈদকে বিজয়ী ঘোষণা করে। প্রাথমিক ফলাফলে তিনি প্রায় ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স পেয়েছেন প্রায় ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।

ডেট্রয়েটে নিজের নির্বাচনী প্রচার সদর দপ্তরে বিজয়ী ভাষণে এল-সাঈদ বলেন, ‘মিশিগান, আমরা অবশেষে করে দেখিয়েছি।’ অঙ্গরাজ্যের সিনেটর-ইলেক্ট হিসেবে মানুষের সামনে দাঁড়াতে পেরে তিনি গর্বিত ও সম্মানিত বলেও জানান।

৪২ বছর বয়সী এল-সাঈদ একজন চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান তিনি। এর আগে ওয়েন কাউন্টি ও ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এবার সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অবস্থান তৈরি করলেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসাব্যবস্থায় সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন এল-সাঈদ। তাঁর নির্বাচনী কর্মসূচিতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ নামে সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা চালুর প্রস্তাবও ছিল। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সমালোচনা করেন তিনি।

তবে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে নিজ দলের ভেতর থেকেই বড় ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়েন এল-সাঈদ। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে তাঁর কাছে পরাজিত কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স নির্বাচনের ঠিক আগে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন। এতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবিরের পক্ষ থেকে এল-সাঈদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এল-সাঈদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে এল-সাঈদ শুধু নিজের আসনই নিশ্চিত করেননি, ডেমোক্র্যাটদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন ধরে রেখেছেন। তাঁর এই জয় দলটির প্রগতিশীল অংশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর মতো ইস্যুতে তাঁর অবস্থান আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ