অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের ইতালীয় রেস্তোরাঁ লা কোস্তার প্রধান রাঁধুনি দাভিদে তাম্বুরেল্লা গত ২০ মে চাকরি হারান। হ্যাম ও আনারস দিয়ে পিৎজা তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানানো তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর একটি ছিল। ইতালীয় খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি অসম্মানজনক মনে করে তিনি এমন পিৎজা বানাতে চাননি। বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে আবেদন করলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় […]
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের ইতালীয় রেস্তোরাঁ লা কোস্তার প্রধান রাঁধুনি দাভিদে তাম্বুরেল্লা গত ২০ মে চাকরি হারান। হ্যাম ও আনারস দিয়ে পিৎজা তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানানো তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর একটি ছিল। ইতালীয় খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি অসম্মানজনক মনে করে তিনি এমন পিৎজা বানাতে চাননি। বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে আবেদন করলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর আবেদন খারিজ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ ঘটনা তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ানও।
১৫ হাজার ডলারের অনুষ্ঠানের খাবার ঘিরে বিরোধ
দাভিদে তাম্বুরেল্লা অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ব্রিসবেনে অবস্থিত লা কোস্তা রেস্তোরাঁয় প্রধান রাঁধুনি হিসেবে কাজ করতেন। গত ২০ মে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাঁর কর্মদক্ষতা ও আচরণ নিয়ে আলোচনার জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে বৈঠকে ডেকেছিল।
রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এলিয়ট ইনগ্রামের অভিযোগ, চার বছরে অন্তত তিনবার পিৎজায় আনারস ব্যবহারের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তাম্বুরেল্লা। সর্বশেষ বিরোধ তৈরি হয় ১৫ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি ব্যয়ের একটি অনুষ্ঠানের খাবারের অর্ডার নিয়ে। অনুষ্ঠানের একজন গ্রাহক হ্যাম ও আনারস দেওয়া পিৎজা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাম্বুরেল্লা তা তৈরি করতে রাজি হননি। বরং তিনি তাঁর কর্তৃপক্ষকে ইতালীয়দের কাছে পিৎজায় আনারস না দেওয়ার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা যাচাই করতে বলেন।
ইনগ্রাম জানান, হ্যাম ও আনারসের পিৎজা তাঁর নিজেরও খুব পছন্দের নয়। তবে আতিথেয়তা খাতে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, ব্যবসার প্রয়োজনে কোন বিষয়ে আপস করতে হবে, তা বোঝা জরুরি। রেস্তোরাঁটির শিশুদের খাবারের তালিকায় আগে থেকেই হ্যাম ও আনারসের পিৎজা ছিল।
বরখাস্তের পেছনে ছিল আরও অভিযোগ
শুধু পিৎজায় আনারস ব্যবহারে আপত্তিই নয়, তাম্বুরেল্লার ভাষার ব্যবহার, সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষোভ প্রকাশের ধরন নিয়েও অভিযোগ তুলেছিল রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন শেফ।
কর্মক্ষেত্রে একটি দুর্ঘটনায় ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও বরখাস্তের বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাম্বুরেল্লার অভিযোগ ছিল, কর্মক্ষেত্রে আহত হওয়ার বিষয়টিও তাঁকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে এবং এ সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক আইনের পরিপন্থী।
তবে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের কমিশনার জেনিফার হান্ট তাঁর আবেদন খারিজ করেন। আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়া এবং দেরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির শর্ত পূরণ না হওয়াই ছিল এর কারণ। ফলে কমিশন বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ন্যায্য ছিল কি না, কিংবা আনারসের পিৎজা বানাতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি চাকরি হারানোর ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
প্রভাব পড়েছে স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ায়
চাকরি হারানোর কারণে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য তাম্বুরেল্লার চলমান প্রক্রিয়াতেও জটিলতা তৈরি হয়। রেস্তোরাঁটির নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮৬ সাবক্লাস ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদনপ্রক্রিয়ায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে ছিলেন তিনি। চাকরিচ্যুতির পর রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাঁর জন্য স্পনসরশিপের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি আবার শুরু করতে হবে তাঁকে।
এদিকে গত জুলাইয়ে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় লা কোস্তা রেস্তোরাঁটিও বন্ধ হয়ে যায়। রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর জন্য ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, তাম্বুরেল্লা ব্রিসবেনের আরেকটি ইতালীয় রেস্তোরাঁয় নতুন কাজ পেয়েছেন। মজার বিষয় হলো, নতুন কর্মস্থলের খাবারের তালিকায় আনারস দেওয়া পিৎজা নেই।
হাওয়াইয়ান পিৎজার শুরু কানাডায়
হ্যাম ও আনারস দিয়ে তৈরি পিৎজা সাধারণত ‘হাওয়াইয়ান পিৎজা’ নামে পরিচিত। ১৯৬২ সালে কানাডার অন্টারিওতে গ্রিক বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী স্যাম পানোপোলস প্রথম এ ধরনের পিৎজা পরিবেশন করেন বলে প্রচলিত ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে পিৎজায় আনারস ব্যবহার নিয়ে ভোজনরসিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্য দেশটির বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত আনারসের অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে এই ফলের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের ঘটনাটি রাজ্যটিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।