যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে নিজের নাম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নাম যুক্ত করার কথা ভেবেছিলেন। এ জন্য গুগল ম্যাপসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে গুগলের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার (২১ অক্টোবর) সাউথ ক্যারোলাইনার ক্লেমসনে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে নিজের নাম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নাম যুক্ত করার কথা ভেবেছিলেন। এ জন্য গুগল ম্যাপসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে গুগলের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সাউথ ক্যারোলাইনার ক্লেমসনে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ট্রাম্প। সেখানে আগে বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা হ্রদ আছে। একটা উপসাগরও আছে। এবার আমাদের দরকার একটা নদী আর একটা মহাসাগর।’
সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নদীর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তাঁকে কেউ একজন বলেছিলেন। তবে নিউইয়র্কের হাডসন নদী কিংবা মিসিসিপি নদীর নাম পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। মহাসাগরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর তাঁর পছন্দের। এই দুটি ছাড়া অন্য কোনো মহাসাগরের নামের সঙ্গে ট্রাম্প কিংবা আমেরিকার নাম যুক্ত করার আগ্রহ নেই তাঁর।
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গুগলের প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা আটলান্টিক নিয়ে সত্যিই ভেবেছিলাম। আমি গুগল ম্যাপসকে ফোন করি। হ্রদের (আমেরিকা) ব্যাপারে তারা খুব ভালো সহযোগিতা করেছিল।’
গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়ে ট্রাম্প তাঁকে মেধাবী ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি গুগল সামলাতে পারবে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, পিচাই তাঁকে জানান, উপসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এক রকম হলেও মহাসাগরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, মহাসাগর একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ট্রাম্পের দাবি, পিচাই তাঁকে বলেন, ‘না, না, না, এবার আমি এটা করব না।’ মহাসাগরের নাম পরিবর্তন নিয়ে এগোতে নিষেধও করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর মনে হয় আটলান্টিক মহাসাগরের নাম আটলান্টিকই থাকা উচিত।
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সুন্দর পিচাইয়ের কথোপকথনটি সত্যিই হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গুগল কিংবা পিচাইয়ের কোনো বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গুগলের আপত্তির কারণে ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন—এ তথ্যটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজের বর্ণনার ভিত্তিতেই এসেছে।
এর আগেও মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ১০ অক্টোবর টেনেসির ক্লার্কসভিলের এক সমাবেশে আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলের কথা বলেন তিনি। সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ কিংবা ‘আমেরিকাসের মহাসাগর’ ব্যবহারের প্রস্তাবও দেন।
ওই সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি মহাসাগর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর নামকরণ দেখতে চান তিনি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথাও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আগেও বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ
এর আগে গত বছর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখা হবে। চলতি বছরের আগস্টে অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশও দেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছিল।
গুগল ম্যাপস ও অ্যাপল ম্যাপস নাম পরিবর্তনের বিষয়টি গ্রহণ করেছে। তবে ম্যাপকোয়েস্ট এবং কানাডার ফেডারেল ও প্রাদেশিক মানচিত্রে আগের নামগুলোই বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর যুক্তি, নতুন নাম দেওয়া হলে অঙ্গরাজ্যটির মর্যাদা ও মূল্য আরও বাড়বে।
স্থাননাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক এসব প্রস্তাব ঘিরে ভৌগোলিক নামকরণ, মানচিত্রে নামের ব্যবহার এবং বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক