সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৫০ অপরাহ্ন, ১২ আগস্ট ২০২৬

আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা বন্ধ, জাতিসংঘের সতর্কতা

আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি নীতি দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই নিষেধাজ্ঞার কারণে লাখো মেয়ে শিক্ষার অধিকার হারিয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, এর প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের দক্ষ জনশক্তি, উন্নয়ন ও সামাজিক কাঠামোর ওপরও পড়তে […]

আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা বন্ধ, জাতিসংঘের সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি নীতি দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই নিষেধাজ্ঞার কারণে লাখো মেয়ে শিক্ষার অধিকার হারিয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, এর প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের দক্ষ জনশক্তি, উন্নয়ন ও সামাজিক কাঠামোর ওপরও পড়তে পারে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগান নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ ধীরে ধীরে সীমিত করা হয়। ২০২২ সালের মার্চে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নারীদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা আরও প্রায় ২ লাখ বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষাবঞ্চিত মেয়ের সংখ্যা ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

দক্ষ নারী জনশক্তির সংকটের আশঙ্কা

জাতিসংঘের মতে, মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ রাখার প্রভাব শুধু বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করতে পারে।

নারীদের শিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে নারী শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক ও অন্যান্য পেশাজীবীর সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ইউনেস্কোর সমন্বয়ক হোদা জাবেরিয়ান বলেন, শুরু থেকেই তারা সতর্ক করে আসছেন যে শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগানিস্তানে একটি প্রজন্মগত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বয়সে থাকা মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নারী শিক্ষকদের ওপরও বিধিনিষেধ

আফগানিস্তানের শিক্ষা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে নারী শিক্ষকদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে। তালেবান প্রশাসন নারী শিক্ষকদের ছেলেদের পড়ানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে যোগ্য নারী শিক্ষকের ঘাটতি ১১ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাঁচ বছরে বন্ধ প্রায় এক হাজার স্কুল

তবে আফগানিস্তানের শিক্ষা সংকট শুধু মেয়েদের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট এবং শিক্ষা অবকাঠামোর দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

গত পাঁচ বছরে দেশটিতে প্রায় এক হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে দেশটির সামগ্রিক সাক্ষরতার হার নেমে এসেছে ৩৭ শতাংশে।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রজন্মকে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা থেকে দূরে রাখার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি বোঝা না গেলেও এর মূল্য ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দিতে হতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ