স্পেনের পার্লামেন্টে সরকারের আবাসন সহায়তা-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস না হওয়ার পর আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাকে ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, আরও কাজ করার জন্য জনগণের সমর্থন […]
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের পার্লামেন্টে সরকারের আবাসন সহায়তা-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস না হওয়ার পর আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাকে ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, আরও কাজ করার জন্য জনগণের সমর্থন নবায়ন ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তিনি পার্লামেন্টে একটি বৃহৎ ও প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্য তুলে ধরেন।
সানচেজের সংখ্যালঘু জোট সরকারের প্রস্তাবিত আবাসন নীতিতে ভাড়াটেদের চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন এবং অসহায় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কঠোর বিধানের প্রস্তাব ছিল। তবে সরকারের ওপর নির্ভরশীল কাতালান বিচ্ছিন্নতাবাদী দল জুন্টস প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় তা পার্লামেন্টে পাস হয়নি।
জুন্টসের দাবি, বিলটি তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি আবাসন সংকট সমাধানের পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মাদ্রিদসহ স্পেনের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী পেনশনভোগী মারিকারমেন আবাসকালকে নিজ ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের ঘটনা আবাসন সংকট নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি তার ফ্ল্যাটের ভাড়া ২৭৫ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তিনি উচ্ছেদের মুখে পড়েন। পরে তীব্র জনবিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ তাকে কম ভাড়ায় ওই ফ্ল্যাটে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
গত এক দশকে স্পেনে গড় বাড়িভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বাড়ি কেনার দামও প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে দেশটিতে আবাসন সংকট বর্তমানে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে অর্থনীতিকে চাঙা রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরলেও সানচেজ সাম্প্রতিক দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও অভিবাসন সংকট নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে সেউটা সীমান্তে মরক্কো থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসীকে রাখা আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
প্রধান বিরোধী দল পপুলার পার্টির (পিপি) নেতা আলবার্তো নুনেজ ফেইজো শনিবার বলেন, দেশ আর এই পরিস্থিতি সহ্য করতে পারছে না।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পপুলার পার্টি। তবে সরকার গঠন করতে হলে দলটিকে কট্টর ডানপন্থি ভক্সের সমর্থন নিতে হতে পারে বলে জরিপের ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচন তাই শুধু সানচেজ সরকারের ভবিষ্যৎ নয়, স্পেনের আবাসননীতি, অভিবাসন এবং রাজনৈতিক জোটের সমীকরণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এএফপি