সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৬:২৯ অপরাহ্ন, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে বাড়ছে দূরত্ব

ইরান ইস্যুতে মতপার্থক্য এবং যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের নির্দেশের অন্যতম কারণ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক উদ্যোগে অংশ নিতে অনাগ্রহ এবং যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যয়কে […]

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে বাড়ছে দূরত্ব

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইরান ইস্যুতে মতপার্থক্য এবং যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নির্দেশের অন্যতম কারণ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক উদ্যোগে অংশ নিতে অনাগ্রহ এবং যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যয়কে উল্লেখ করা হয়েছে। মহড়া শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এসব মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে তিনি সন্তুষ্ট নন।

একই পোস্টে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে তিনি সম্প্রতি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তার দাবি, সিউল এতে সম্মতি দেয়নি।

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে এগুলো এমন একটি দেশের প্রতি বৈরী বার্তা পাঠায়, যে তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি।

নির্ধারিত সময়েই শুরু মহড়া

ট্রাম্পের নির্দেশের পরও ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে পরিচিত বার্ষিক যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছে। এবারের মহড়া ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা এবং এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মহড়া শুরু হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক মহড়া নিয়ে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য পর্যালোচনা করছে বলেও জানিয়েছে। একই সঙ্গে সিউল আশা করছে, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার যোগাযোগ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে অর্থবহ সংলাপের পথ তৈরি করতে পারে।

ইরান ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে সিউলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়াও বিবেচনায় রাখছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রয়টার্স পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে একজন মুখপাত্র প্রশ্নগুলো হোয়াইট হাউসে পাঠিয়ে দেন। তবে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো জবাব দেয়নি।

দীর্ঘদিনের মতবিরোধ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া সীমিত করার পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান নতুন নয়। এর আগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সময়ও তিনি এসব মহড়াকে ব্যয়বহুল ও উসকানিমূলক হিসেবে সমালোচনা করেছিলেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার ব্যয় ভাগাভাগি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা নিয়েও ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে পিয়ংইয়ং আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া জোটের সামরিক প্রস্তুতি ও পারস্পরিক আস্থায় প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্পর্ক অতীতে নানা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দুই নেতার মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ফলে ইরান ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন যোগাযোগ এবং যৌথ সামরিক মহড়ার ভবিষ্যৎ—এই তিনটি বিষয়ই এখন ওয়াশিংটন-সিউল সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ