ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য দেশটির সাধারণ মানুষ। বুধবার (২০ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির হুমকি দেন। ট্রাম্প সামাজিক […]
ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য দেশটির সাধারণ মানুষ।
বুধবার (২০ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির হুমকি দেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর একটি।
ট্রাম্প আরও বলেন, কোনো দেশ যদি তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করে, সেসব দেশকেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি চলছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানায়। তেহরানের দাবি, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সরাসরি সাধারণ ইরানিদের ওপর পড়বে এবং এটিকে তারা অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় অখণ্ডতা ও নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার অবস্থান থেকে তেহরানকে সরানো যাবে না।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হতে জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্বনির্ধারিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।
এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে মোতায়েন ছিল। দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েন নিয়ে জাহাজটির নাবিকদের খাদ্য, সরবরাহ ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়।
জর্জ ওয়াশিংটন এখন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর আব্রাহাম লিংকনকে দীর্ঘদিনের মোতায়েন শেষে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নতুন রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অন্যান্য মার্কিন নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
তবে জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি সাময়িকভাবে কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ ও জনবলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি—দুই ঘটনাই যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের সংঘাত যে এখনো শেষ হয়নি, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)