সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৫:৩৬ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের কারাগারে অভূতপূর্ব প্রতিবাদ: মৃত্যুদণ্ড বন্ধে ঠোঁট সেলাই করে ১৫০০ বন্দির অনশন

ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে নজিরবিহীন গণঅনশন শুরু করেছেন দেশটির বৃহত্তম কারাগারের অন্তত দেড় হাজার বন্দি। নিজেদের তীব্র ক্ষোভ ও আকুতি তুলে ধরতে অভিনব ও চরম পথ বেছে নিয়েছেন অনেক কয়েদি; নিজেদের ঠোঁট সুই-সুতো দিয়ে সেলাই করে চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রতিবাদ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের অদূরে অবস্থিত ঘেজেল হেসার কারাগারে গত […]

ইরানের কারাগারে অভূতপূর্ব প্রতিবাদ: মৃত্যুদণ্ড বন্ধে ঠোঁট সেলাই করে ১৫০০ বন্দির অনশন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে নজিরবিহীন গণঅনশন শুরু করেছেন দেশটির বৃহত্তম কারাগারের অন্তত দেড় হাজার বন্দি। নিজেদের তীব্র ক্ষোভ ও আকুতি তুলে ধরতে অভিনব ও চরম পথ বেছে নিয়েছেন অনেক কয়েদি; নিজেদের ঠোঁট সুই-সুতো দিয়ে সেলাই করে চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রতিবাদ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের অদূরে অবস্থিত ঘেজেল হেসার কারাগারে গত দুই সপ্তাহ ধরে এই গণঅনশন চলছে। সম্প্রতি মাদক মামলায় দণ্ডিত ছয় বন্দিকে ফাঁসি কার্যকরের উদ্দেশ্যে নির্জন প্রকোষ্ঠে (সলিটারি কনফাইনমেন্ট) স্থানান্তরের পর এই গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, কারাগারের করিডোরে বসে বন্দিরা “মৃত্যুদণ্ডকে না বলুন” এবং “আমাদের কণ্ঠস্বর হোন” লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছেন। অনশনের ছয় দিন পার হলেও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত না করায় এক বন্দি প্রকাশ্যে নিজের ঠোঁট সেলাই করে ফেলার দৃশ্য ধারণ করেন। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে কয়েদিদের মুমূর্ষু হয়ে পড়ার অভিযোগও তুলেছেন অনশনকারীরা।

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআরএনজিও)-এর তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর ইরানে ইতোমধ্যে অন্তত ৪২৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, এসব দণ্ডের বড় অংশই দেওয়া হয়েছে মাদক সংক্রান্ত মামলায়, যার শিকার মূলত প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরেও রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হার মারাত্মকভাবে বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অন্যান্য আইনি সহায়তা কেন্দ্রের দাবি, ইরানে জাতীয় নিরাপত্তা ও মাদক মামলার বিচারে কোনো স্বচ্ছতা বা আইনি স্বাধীনতা নেই। নির্যাতন চালিয়ে নেওয়া স্বীকারোক্তি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বিচারিক আদালতগুলো মৃত্যুদণ্ডের মতো চরম সাজা ঘোষণা করছে। নিজেদের জীবন চরম ঝুঁকিতে জেনেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই কয়েদিরা এই আত্মঘাতী অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান / ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) / অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ