ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের ইনটেলের একটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) কারখানাটিতে এ বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দমকলকর্মীদের পাশাপাশি বিশেষায়িত বিপজ্জনক রাসায়নিক মোকাবিলা দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে […]
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের ইনটেলের একটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) কারখানাটিতে এ বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দমকলকর্মীদের পাশাপাশি বিশেষায়িত বিপজ্জনক রাসায়নিক মোকাবিলা দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে।
বিস্ফোরণের পর কারখানাটিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অথরিটি জানিয়েছে, রাসায়নিকের উৎস শনাক্ত করা এবং পরিস্থিতি নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কাজ করছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় নাইট্রোজেন ট্রাইফ্লুরাইড নামের একটি গ্যাস জড়িত থাকতে পারে। সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরির কাজে ব্যবহৃত এ গ্যাসের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে রাসায়নিকের উপস্থিতি ও ঝুঁকির মাত্রা পরীক্ষা করছে।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। ঘটনার পর আটটি ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আশপাশের স্টেশন থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত বিশেষায়িত দলও সেখানে পৌঁছায়।
উদ্ধারকারী দল আগুনের উৎস নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি কারখানায় কোনো ক্ষতিকর পদার্থ ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করছে। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
কিরিয়াত গাতের এই কারখানায় সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদন করা হয়। আধুনিক কম্পিউটার, ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত চিপ তৈরিতে এ ধরনের কারখানায় বিভিন্ন শিল্পগ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়। ফলে বিস্ফোরণের পর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হলেও বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ, রাসায়নিক নির্গমনের পরিমাণ এবং কারখানার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।