ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলে আরও নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে এই প্রস্তাবের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে ও […]
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলে আরও নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে এই প্রস্তাবের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
প্রাথমিক অনুমোদন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত বুধবার ইসরায়েলের কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিস্তৃত এলাকা দখলের প্রস্তাবটি অনুমোদন দেন। ১২০ সদস্যের নেসেটে ২৫-২৪ ভোটে পাস হওয়া এই বিলটি এখনও চূড়ান্ত আইনে রূপ নেওয়া হয়নি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইচ্ছানুযায়ী বিলটি বিলম্ব বা বাতিলও হতে পারে। তবে এই প্রাথমিক অনুমোদন ইসরায়েলের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবের অনুমোদন গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র ১০ দিন পর আসে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়েছিল। একই সময়কালেই মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরায়েল সফরে রয়েছেন। মার্কো রুবিও এই প্রস্তাবকে ‘শান্তির জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি গাজা সংকট এবং পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ফিলিস্তিনের তীব্র প্রতিবাদ
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেসেটের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং এই ধরনের পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটাবে। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ১৬০টি ইহুদি বসতি রয়েছে, যেখানে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করছেন, আর তাদের সঙ্গে প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করছেন।
১৯৪৮ সালের পর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৭ সালে জাতিসংঘ একটি মানচিত্র নির্ধারণ করে, যেখানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইসরায়েল ধীরে ধীরে এসব এলাকায় বসতি বিস্তার শুরু করে এবং ফিলিস্তিনিদের বিতাড়ন করেছে। ফিলিস্তিনিদের সাথে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও তাদের জমি দখলের ঘটনা নিয়মিত ঘটে আসছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর সংযুক্ত করতে দেব না।’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সও একই মত প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেসেটে বিল পাস করা হোক বা না হোক, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিস্তৃত অংশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ফিলিস্তিন ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের গবেষক ওয়ালিদ হাব্বাস মন্তব্য করেছেন, ‘বিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাস্তবে এটি অবস্থা পরিবর্তন করবে না। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এখন মৃত, এবং এই বিল পাস হলে আলোচনা-আলোচনার কোনও সুযোগও থাকবে না।’
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যতকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের সংঘাত সঠিক সমাধান থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারে। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই ধরনের পদক্ষেপ তা কঠিন করে তুলছে।
এছাড়াও, পশ্চিম তীরের নতুন বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিতর্কিত। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা ও অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অঞ্চলটিতে আরও অস্থিরতা ও সহিংসতার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।