ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকট থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি সরানোর কৌশল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন ঋণ এবং ক্রমবর্ধমান সুদের খরচের মতো সমস্যার মুখোমুখি। সেই পরিস্থিতি আড়াল করতেই […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকট থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি সরানোর কৌশল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন ঋণ এবং ক্রমবর্ধমান সুদের খরচের মতো সমস্যার মুখোমুখি। সেই পরিস্থিতি আড়াল করতেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরাগচি বলেন, ব্যর্থ নীতিগুলো আরও জোরালোভাবে প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে পরাজয় ডেকে আনতে পারে এবং ইরানিদের মধ্যে মার্কিনবিরোধী মনোভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন, এর প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রায় অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি এটিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা দেশগুলোকেও কঠোর পরিণতির হুমকি দেন।
ট্রাম্পের ঘোষণায় ইরানের তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তার পথ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে এমন দেশগুলোর আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বা সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ওয়াশিংটনের এই অবস্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ও আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যে এসেছে। মার্কিন প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে সমঝোতায় আনতে চাইছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এ ধরনের চাপ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনাও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশটির ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি চাপ নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণাকে সেই অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করেছেন আরাগচি।
তবে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে তাদের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তেহরানকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়ানো হবে।
আরাগচির বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন করা দেশগুলো নতুন মার্কিন পদক্ষেপের আওতায় পড়বে কি না, তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স, এএফপি