নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকার, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে মতবিরোধ নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে ফেডারেল অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও কারাগার কর্তৃপক্ষ কতটা সহযোগিতা করবে, তা নিয়ে বিরোধ তীব্র হচ্ছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাম্প্রতিক নীতিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা […]
নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকার, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে মতবিরোধ নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে ফেডারেল অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও কারাগার কর্তৃপক্ষ কতটা সহযোগিতা করবে, তা নিয়ে বিরোধ তীব্র হচ্ছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাম্প্রতিক নীতিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় কারাগারগুলোর বিশেষ সহযোগিতা চুক্তির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপের বিষয় রয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসনের বক্তব্য, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হলো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে অঙ্গরাজ্য সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন নিউইয়র্কের কিছু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা। ক্যাটারগাস কাউন্টির শেরিফ এরিক বাটলার প্রকাশ্যে গভর্নর হোকুলের নীতির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকা জরুরি। এর ফলে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্কে আইসিইর তৎপরতাও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে বলে দাবি করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা। ক্যাপিটাল অঞ্চলের অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহে অভিবাসীদের আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে। তাদের দাবি, কিছু অভিযান আকস্মিকভাবে এবং জনসম্মুখে পরিচালনা করা হচ্ছে।
আইসিইর তৎপরতা বাড়ার খবরে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্রে জটিলতা রয়েছে, তারা স্থানীয় পুলিশ এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বিষয়টি এখন আদালতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কের অভিবাসন-সংক্রান্ত কয়েকটি বিধান নিয়ে ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ফলে অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব নীতি এবং ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগের এখতিয়ারের মধ্যে সীমারেখা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফেডারেল অভিবাসন অভিযান জোরদার হলে গ্রেপ্তার, আটক এবং নির্বাসনের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অভিযানে কতটা সহযোগিতা করবে, সেটিও অভিবাসীদের উদ্বেগের একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি নিয়ে বর্তমান বিরোধ কেবল অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা, ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।