নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসী অধ্যুষিত একাধিক এলাকায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর তৎপরতা বেড়েছে বলে দাবি করেছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। সাম্প্রতিক অভিযান ও নজরদারি নিয়ে অনিবন্ধিত অভিবাসী ও প্রবাসী পরিবারের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আইসিই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। ম্যানহাটনের ইনউড ও […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসী অধ্যুষিত একাধিক এলাকায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর তৎপরতা বেড়েছে বলে দাবি করেছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। সাম্প্রতিক অভিযান ও নজরদারি নিয়ে অনিবন্ধিত অভিবাসী ও প্রবাসী পরিবারের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
অভিবাসী অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আইসিই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। ম্যানহাটনের ইনউড ও ওয়াশিংটন হাইটস এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পোর্ট রিচমন্ড ও স্ট্যাপলটন এলাকার নামও এ বিষয়ে সামনে এসেছে।
ব্রুকলিনের সানসেট পার্ক, ডাইকার হাইটস, বেনসনহার্স্ট ও সাইপ্রেস হিলসেও আইসিইর আকস্মিক উপস্থিতি ও অভিযানের খবর পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় অভিবাসী সংগঠনগুলো। এসব এলাকার অনেক জায়গায় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ঘনবসতি থাকায় সেখানে অভিযান নিয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি বলে তারা জানিয়েছে।
কুইন্সেও আইসিইর তৎপরতা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট, কলেজ পয়েন্ট ও করোনার মতো অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাইয়ের পর শুধু কুইন্স এলাকাতেই দুই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে আটকের সুনির্দিষ্ট তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে গ্রেপ্তার ও আটকের ভয় আরও বেড়েছে।
তবে আইসিইর পক্ষ থেকে এসব এলাকাভিত্তিক অভিযানের কোনো পূর্ণাঙ্গ বা আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিবাসী সংগঠনগুলো যে এলাকাগুলোর নাম উল্লেখ করেছে, সেখানে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নিউইয়র্কে আইসিইর কর্মকাণ্ড নিয়ে সামগ্রিক উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে শহরে অভিবাসন প্রয়োগের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে আইসিই ৫ হাজার ৫৬৭টি গ্রেপ্তার করেছে, যা আগের প্রশাসনের একই সময়ের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি।
এদিকে জুলাইয়ের শেষ দিকে ইনউড, ইস্ট এলমহার্স্ট ও কলেজ পয়েন্টসহ কয়েকটি এলাকায় আইসিই কর্মকর্তাদের তৎপরতা বেড়েছিল বলেও স্থানীয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অধিকারকর্মীরা অভিবাসীদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ, আটক বা গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনজীবী বা অনুমোদিত অভিবাসন সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিক কতসংখ্যক মানুষ এবং কোন কোন এলাকায় আইসিইর অভিযানের আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে সরকারি পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় সব দাবিকে একই মাত্রায় নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।