সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৭:০৭ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

নেতানিয়াহুর সরকারকে সরাতে ভোট দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে ফিরছেন প্রবাসীরা

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখছেন দেশটির অনেক নাগরিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইসরাইলে ফিরছেন প্রবাসী ইসরাইলিরা। তাঁদের কেউ বার্লিনে, কেউ ব্রুকলিনে বসবাস করলেও ভোট দিতে পাড়ি দিচ্ছেন হাজার হাজার মাইল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত এক ইসরাইলি নাগরিকও প্রায় ৬ হাজার মাইল পথ পাড়ি […]

নেতানিয়াহুর সরকারকে সরাতে ভোট দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে ফিরছেন প্রবাসীরা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখছেন দেশটির অনেক নাগরিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইসরাইলে ফিরছেন প্রবাসী ইসরাইলিরা। তাঁদের কেউ বার্লিনে, কেউ ব্রুকলিনে বসবাস করলেও ভোট দিতে পাড়ি দিচ্ছেন হাজার হাজার মাইল।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত এক ইসরাইলি নাগরিকও প্রায় ৬ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে দেশে ফিরছেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে ইসরাইলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এ জন্য তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে যাচ্ছেন একজন শিশুযত্নকারীর কাছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ওই নাগরিক জানান, বিদেশে বসবাসরত ইসরাইলিদের ডাকযোগে কিংবা অনুপস্থিত থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই ভোট দিতে হলে নির্বাচনের দিন তাঁদের দেশটিতে উপস্থিত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মনে মনে প্রার্থনা করছি, যেন যুদ্ধ শুরু না হয় এবং আমরা সেখানে আটকা না পড়ি।’

দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে ওই নাগরিক বলেন, তাঁদের সন্তানদের ফিরে আসার মতো একটি দেশ থাকা প্রয়োজন। বর্তমান ইসরাইলি সরকারের প্রতি তাঁর সমর্থন নেই এবং তিনি চান সরকারটি ক্ষমতা থেকে সরে যাক। একই সঙ্গে একজন ইসরাইলি নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতি নিজের দায়িত্বকেও গুরুত্ব দেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, সেনাবাহিনী ডাকলে তিনি সাড়া দেন, আবার নির্বাচনের সময় এলে ভোটকেন্দ্রেও উপস্থিত হন। তাঁর কাছে এই দুটি কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

ওই নাগরিক জানান, তাঁদের অনেকেই আবার ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর পরিবারের আবাসস্থল ‘ওয়াহাত আল-সালাম/নেভে শালোম’ নামের একটি গ্রামে। সেখানে ইহুদি ও ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো পাশাপাশি বসবাস করে এবং একসঙ্গে নিজেদের সন্তানদের বড় করে তোলে। গ্রামটিতে ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

গত তিন বছরের যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইসরাইল আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার চেয়ে বর্তমান সরকার নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগী।

ওই নাগরিকের মতে, ইসরাইলের গণতন্ত্র এখন ক্ষতবিক্ষত ও বৈষম্যপূর্ণ হলেও তা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। এই গণতন্ত্র রক্ষায় হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দেশে গিয়ে ভোট দেওয়াকে নিজের অপরিহার্য দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে গত এক বছর বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসরাইলিদের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অবাক করেছে। শুধু ইসরাইলি হওয়ার কারণে শিল্পকলা ও চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বয়কটের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর নিজের কাজও এর মধ্যে রয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, বিশ্বের অনেকেই ইসরাইলের সব নাগরিককে দেশটির কট্টরপন্থী সরকারের সঙ্গে এক করে দেখছেন।

তিনি জানান, প্রথমে দেশে ফিরে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। দীর্ঘ বিমানযাত্রা, সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণের পর সময়ের পার্থক্যজনিত ক্লান্তির কথা ভেবে সিদ্ধান্তটি কঠিন মনে হয়েছিল তাঁর কাছে।

তবে পরে একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে তাঁর। ইসরাইলি যাত্রীতে ভরা একটি বিমান ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল। বিমানের ককপিটে থাকা এক হামলাকারী বিমানটিকে দেশের জাতীয় বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় যাত্রীরা নিষ্ক্রিয়ভাবে উদ্ধারের অপেক্ষা না করে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে হামলাকারীকে কাবু করেন। এতে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

ওই ঘটনার সঙ্গে ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, দেশটিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি থেকে দেশকে টেনে তোলার জন্য কেউ এগিয়ে আসছে না। তাই পরিবর্তন আনতে নাগরিকদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ৭ অক্টোবর ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আর ২৭ অক্টোবর দেশে ফিরছেন এমন একটি ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে অংশ নিতে, যে দেশ সবার জন্য উপযুক্ত হবে।

শেষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পালিয়ে যাব, নাকি লড়াই করব? আমি দুটোই বেছে নিচ্ছি।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ