নিউইয়র্কে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক সহিংস ঘটনার তদন্তে একই ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। ব্রুকলিনে বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ আবু ইউসুফ হত্যার পর এবার ব্রঙ্কসে একটি দোকানে গুলি ও ডাকাতির ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তাকে খুঁজতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ […]
নিউইয়র্কে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক সহিংস ঘটনার তদন্তে একই ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। ব্রুকলিনে বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ আবু ইউসুফ হত্যার পর এবার ব্রঙ্কসে একটি দোকানে গুলি ও ডাকাতির ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তাকে খুঁজতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউতে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় গুলির ঘটনা ঘটে। ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানে গুলিতে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে নিহত ব্যক্তি মোহাম্মদ আবু ইউসুফ এবং আহত ব্যক্তি রাসেল বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই ব্রুকলিনের ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে আসছে পুলিশ।
এর মাত্র দুই দিন পর, ২৫ আগস্ট রাত ১২টা ১৫ মিনিটের পর ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৪৯ স্ট্রিটের একটি দোকানে ঘটে আরেকটি সশস্ত্র হামলা ও ডাকাতির ঘটনা। সেখানে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে ওই ব্যক্তিকে গুলি করার পর কাউন্টারের পেছনে চলে যায়। সেখানে থাকা কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ক্যাশ রেজিস্টার থেকে টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর অবস্থা গুরুতর হলেও তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দুটি ঘটনার তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে জেসাস আকোস্তার নাম। এনওয়াইপিডির দাবি, ব্রুকলিনের হত্যাকাণ্ড এবং ব্রঙ্কসের ডাকাতি ও গুলির ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে আকোস্তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাকে দুটি ঘটনার তদন্তে খোঁজা হচ্ছে এবং তার অবস্থান শনাক্ত করতে জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, আকোস্তা সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশের ক্রাইমস্টপার্সে জানাতে হবে। সন্দেহভাজনের অবস্থান, গতিবিধি কিংবা তাকে শনাক্তে সহায়ক যেকোনো তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সময়ের ব্যবধানও পুলিশকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। ব্রুকলিনে বাংলাদেশি অভিবাসী হত্যার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ব্রঙ্কসে একই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘটনাতেই জেসাস আকোস্তার নাম উঠে আসায় তদন্তের পরিধি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রুকলিনের হত্যাকাণ্ডের পর নতুন করে ব্রঙ্কসে গুলি ও ডাকাতির ঘটনা নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে একই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় পুলিশ দ্রুত তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এনওয়াইপিডি বলছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্কের পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।