সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৩:৪৯ অপরাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬

ভারতে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদসহ যেসব স্থাপনা ধ্বংস করেছে মোদি সরকার

ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ ও ধ্বংসকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ, মাদরাসা, দরগাহ ও ঈদগাহসহ বহু মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা প্রশাসনিক অভিযানের নামে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার বড় অংশই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন […]

ভারতে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদসহ যেসব স্থাপনা ধ্বংস করেছে মোদি সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ ও ধ্বংসকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ, মাদরাসা, দরগাহ ও ঈদগাহসহ বহু মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা প্রশাসনিক অভিযানের নামে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার বড় অংশই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস ফর অল’ জানিয়েছে, গত প্রায় দেড় মাসে ভারতের অন্তত ছয়টি রাজ্যে ২৩টির বেশি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান ও হরিয়ানায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে ছিল প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মসজিদ, শতবর্ষী দরগাহ, মাদরাসা এবং ঈদগাহ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব অভিযানের অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক গঞ্জ শহীদা মসজিদ, যার বয়স প্রায় এক হাজার বছর বলে স্থানীয়দের দাবি। এছাড়া দিল্লির প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দরগাহ পঞ্চ পীরান, রাজস্থানের জয়পুরের নূরানি মসজিদ, মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ও গোরেগাঁও এলাকার কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহও উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় পড়ে।

মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ তুলে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পাশের একই ধরনের অন্য ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে এসব অভিযানে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর সহিংসতা, গণপিটুনি এবং সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গোরক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট এবং আসামসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম বসতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের অভিযোগও সামনে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে আটক এবং সীমান্তে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব ব্যবহার, প্রকাশ্যে নামাজ আদায় এবং মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারের মতো বিষয়েও বিভিন্ন রাজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়েও সংখ্যালঘুদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, উচ্ছেদ অভিযান বা প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো আইনগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় সহাবস্থান, সংখ্যালঘু অধিকার এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের প্রশ্নে ভারতে চলমান বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ