যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েছেন। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আদালতের তদন্ত ও অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতিমধ্যে কিছু কর্মীর ওপর পড়তে শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো নিষেধাজ্ঞার পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েছেন। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আদালতের তদন্ত ও অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতিমধ্যে কিছু কর্মীর ওপর পড়তে শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো নিষেধাজ্ঞার পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে এতে আদালতের কাজের গতি কমেনি বলে দাবি করেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি
চলতি মাসে আইসিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটির কঠোর সমালোচনা করে একে ‘দুষ্ট আদালত’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র আদালতটির কার্যক্রম বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারে।
নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত যৌথভাবে প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন নাজাত শামিম খান। তাঁর ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আদালতের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলায় অগ্রগতি
২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধের ঘটনায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। খান জানান, ওই তদন্তের পাশাপাশি আদালতের অন্যান্য কাজেও অগ্রগতি হয়েছে। তবে কিছু আবেদন ও নথি আদালতের নির্দেশে গোপন রাখা হয়েছে।
ব্যাংকিং ও প্রযুক্তি সেবায় বিকল্প ব্যবস্থা
খান জানান, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর হতে ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হলেও এর আগেই কিছু কর্মী ব্যাংকিং সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পরিধি সম্পর্কে অস্পষ্টতার কারণে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সতর্ক আচরণ করছে।
ফিজির নাগরিক এই ডেপুটি প্রসিকিউটর বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা হয়েছে। ফলে কর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে কয়েকজন কর্মী তাঁদের ব্যাংকিং কার্যক্রমে সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থাও নিচ্ছে আইসিসি। মাইক্রোসফটের পরিবর্তে ইউরোপীয় বিকল্প সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমা-সংক্রান্ত সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তদন্ত অব্যাহত রাখার ঘোষণা
নাজাত শামিম খান বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আইসিসির সব ধরনের তদন্ত চলছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে আদালতের কাজের সক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তবে নিষেধাজ্ঞাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি কার্যকর হলে আদালতের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন বলে স্বীকার করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আমার দেশ অনলাইন।