দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় একটি ঐতিহাসিক পাথরের বাড়ি কিনেছিলেন টাইলার ও লরেন বোল্ডিন দম্পতি। কিন্তু সেখানে বসবাস শুরু করার পর তারা আবিষ্কার করেন, বাড়িটির চারপাশ ও বিভিন্ন অংশে শত শত সাপের বসবাস। এরপর থেকেই বাড়িটিকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাখতে নিয়মিত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পেনসিলভানিয়ার মধ্যাঞ্চলের ছোট শহর পাইন গ্রোভে অবস্থিত ১৮৩০-এর দশকে […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় একটি ঐতিহাসিক পাথরের বাড়ি কিনেছিলেন টাইলার ও লরেন বোল্ডিন দম্পতি। কিন্তু সেখানে বসবাস শুরু করার পর তারা আবিষ্কার করেন, বাড়িটির চারপাশ ও বিভিন্ন অংশে শত শত সাপের বসবাস। এরপর থেকেই বাড়িটিকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাখতে নিয়মিত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
পেনসিলভানিয়ার মধ্যাঞ্চলের ছোট শহর পাইন গ্রোভে অবস্থিত ১৮৩০-এর দশকে নির্মিত এই বাড়িটি ২০২০ সালে নিলামে ৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে কেনেন বোল্ডিন দম্পতি। প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের বাড়িটিতে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ ও পাঁচটি বাথরুম। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
বাড়িতে ওঠার পর থেকেই চারপাশে নিয়মিত সাপ দেখা যেতে থাকে। কখনও পাথরের দেয়াল বেয়ে উঠছে, কখনও সামনের সিঁড়ি পার হচ্ছে, আবার কখনও পুরো আঙিনাজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব দৃশ্য ধারণ করে টিকটকে প্রকাশ করলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অনেকেই বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার কিংবা ভেঙে ফেলার পরামর্শ দিলেও টাইলার বোল্ডিন আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বেছে নেন। তার মতে, সমস্যার মূল কারণ দূর করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সে লক্ষ্যেই বাড়ির ভিত্তির ফাটলগুলো বন্ধ করা হয়েছে, আঙিনার পুরোনো গাছের গুঁড়ি ও সাপের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ ধরনের স্নেক গ্র্যাবার ব্যবহার করে ধরা সাপগুলো কাছাকাছি বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
বোল্ডিন পরিবারের বাড়িতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ব্ল্যাক র্যাট স্নেক বা কালো ইঁদুরখেকো সাপ। এটি একটি অ-বিষধর প্রজাতি, যা সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২৩ সালে প্রকাশিত এক টিকটক ভিডিওতে টাইলার জানান, শুরু থেকেই তারা এসব সাপ না মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, অ-বিষধর এই সাপগুলো এলাকায় বিষধর কপারহেড ও টিম্বার র্যাটলস্নেক-এর মতো আরও বিপজ্জনক সাপের বিস্তার কমাতে সহায়তা করে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, অ-বিষধর সাপ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাড়িতে সাপ দেখা দিলে অযথা হত্যা না করে নিরাপদ উপায়ে অপসারণ এবং তাদের প্রবেশের পথ বন্ধ করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
বর্তমানে বোল্ডিন পরিবার ধাপে ধাপে সাপের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এবং একটি ঐতিহাসিক বাড়ি কেনার স্বপ্ন কীভাবে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে, তার ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।