যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এ বিষয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রচারণাকে মিথ্যা দাবি করে ওয়াশিংটনকে শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে যুক্তি ও সংলাপের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক জাতিসংঘের কনভেনশনের ১৭তম পক্ষ সম্মেলন […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এ বিষয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রচারণাকে মিথ্যা দাবি করে ওয়াশিংটনকে শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে যুক্তি ও সংলাপের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক জাতিসংঘের কনভেনশনের ১৭তম পক্ষ সম্মেলন (কপ-১৭)-এর ফাঁকে জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর মিডলইস্ট আইয়ের।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা মিথ্যা ও ধ্বংসাত্মক।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরান বরাবরই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত জানিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব। কিন্তু তেহরান জোরজবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে মানবিক নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে অযৌক্তিক ও অমানবিক বলে আখ্যা দেন তিনি।
বৈঠকে জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে তাঁর দেশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে তেহরান।
এরপর ৮ এপ্রিল সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। পরে ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অঞ্চলটির সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশের ১৭ আগস্টের মধ্যে আলোচনা করার কথা ছিল। তবে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র: মিডলইস্ট আই।