সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
১:৫৯ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষা শুরু, গ্রিডে সরবরাহের অপেক্ষা

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আপাতত কেন্দ্রের নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আগে আরও কয়েক ধাপ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার […]

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষা শুরু, গ্রিডে সরবরাহের অপেক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আপাতত কেন্দ্রের নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আগে আরও কয়েক ধাপ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে স্টেজ-সি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয়। এরপর শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পর্যায়ের কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে চুল্লির ক্ষমতা

স্টেজ-সি হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং বা চালু করার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে চুল্লির ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।

পরীক্ষার আওতায় রয়েছে চুল্লি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিটি পর্যায়ে এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, এ পর্যায়ে বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করে জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পর হবে পরবর্তী পরীক্ষা

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। টারবাইন পরীক্ষা চলবে। উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে আবারও পরিদর্শন করা হবে।

পরিদর্শনে সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়া গেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হবে। অর্থাৎ পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হলেও এখনই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হচ্ছে না।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানি

এদিকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজেও অগ্রগতি হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রথম চালানের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

সাইবেরিয়ার নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি এসব জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে দেশে আনা হয়। রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানির কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।

রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোড করার আগে বাংলাদেশ, প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির কারিগরি পরীক্ষা করবে। এসব পরীক্ষা পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তার নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও রোসাটম।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ