গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানার প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালনের তার কেটে নেওয়ার সময় চোর চক্রের এক সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। রোববার ভোরের দিকে সংঘটিত এই ঘটনা কারখানার দৈনন্দিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে। আটককৃত ব্যক্তি হলেন তানভীর আহমেদ (১৮), যিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করেছেন। কারখানার নিরাপত্তা সুপারভাইজার বাকীবিল্লাহ জানান, ভোরবেলা কারখানা […]
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানার প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালনের তার কেটে নেওয়ার সময় চোর চক্রের এক সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। রোববার ভোরের দিকে সংঘটিত এই ঘটনা কারখানার দৈনন্দিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে। আটককৃত ব্যক্তি হলেন তানভীর আহমেদ (১৮), যিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করেছেন।
কারখানার নিরাপত্তা সুপারভাইজার বাকীবিল্লাহ জানান, ভোরবেলা কারখানা চলমান অবস্থায় হঠাৎ মেশিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত চালানো হলে তানভীরকে কাটাছেঁড়া করা তারসহ আটক করা হয়। চোর চক্রের অন্যান্য সদস্যরা দেয়াল টপকিয়ে পলায়ন করেছে বলে তিনি জানান।
আটক তানভীরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তার সঙ্গে আলমগীর, রিয়েল ও আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে, যারা পালিয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার ভাঙারি দোকান মালিক হুমায়ুন, ইব্রাহিম ও কালামের সহযোগিতায় তারা এই চুরি সংঘটিত করেছেন।
কারখানার জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন বলেন, শক্ত ভিত্তির দেয়াল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সত্ত্বেও কারখানায় চোর চক্র নানা কৌশলে প্রবেশ করে নিয়মিত বিদ্যুতের তার চুরি করছে। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ব্যবসার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, স্থানীয় একটি সুসংগঠিত চোর চক্র এবং কিছু অসাধু ভাঙারি দোকান মালিকের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এই অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের চুরির ঘটনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাওয়া গেছে, যা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
শ্রীপুর থানার এসআই মো. আবুল বাশার জানান, কারখানার নিরাপত্তা কর্মীদের সহযোগিতায় একজন চোরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর তার দোষ স্বীকার করেছে। কারখানার নিরাপত্তা ইনচার্জ মো. খলিলুর রহমান বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শ্রীপুরের এই ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানায় বিদ্যুতের তার চুরি শুধুমাত্র এক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, এটি শিল্প খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও প্রকাশ করছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে শুধু ওই কারখানাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও সরবরাহ চেইনেও বিরূপ প্রভাব পড়ে। এছাড়াও, এই ধরনের অপরাধ শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।
সরকারি ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উচিত এই ধরনের চোর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোও জরুরি।
পাঠকদের জন্য এই খবরের গুরুত্ব হলো, এটি একটি সতর্কবার্তা যে, যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা বড় কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে তা চোর চক্রের জন্য সহজ শিকার হতে পারে। সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হতে হবে।