সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিন, জেরুজালেম ও ইসরায়েল নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩৬টি পাঠ্যবই পর্যালোচনা করে ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সে জানিয়েছে, কয়েকটি মানচিত্র থেকে ‘ফিলিস্তিন’ নামটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-সের জুলাই ২০২৬-এর […]
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিন, জেরুজালেম ও ইসরায়েল নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩৬টি পাঠ্যবই পর্যালোচনা করে ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সে জানিয়েছে, কয়েকটি মানচিত্র থেকে ‘ফিলিস্তিন’ নামটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-সের জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বইয়ের একটি অনুশীলনে আগে ‘The Muslims will never give up Jerusalem’ বাক্যটি ছিল। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ওই বাক্যটি আর রাখা হয়নি। সংস্থাটির মতে, বাক্যটি জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে উপস্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
সৌদি পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রেও কয়েক বছরের ব্যবধানে পরিবর্তন এসেছে। ইমপ্যাক্ট-সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, আগের কিছু সামাজিক ও জাতীয় শিক্ষা বিষয়ের বইয়ে ইসরায়েলকে আলাদাভাবে দেখানো হতো না; পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সংস্করণে এসব মানচিত্র থেকে ‘ফিলিস্তিন’ নামটি সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৫-২৬ সংস্করণেও এই পরিবর্তন বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩-২৪ সালের পাঠ্যবই পর্যালোচনা করে একই সংস্থা জানিয়েছিল, সৌদির কিছু মানচিত্রে ইসরায়েলের নাম বাদ দিয়ে পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ বলা হতো। পরবর্তী সংস্করণে সেই নামও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুধু মানচিত্র নয়, ইসরায়েল ও ইহুদিবাদ নিয়ে ব্যবহৃত ভাষাতেও পরিবর্তন এসেছে। একাদশ শ্রেণির ইতিহাসের একটি বইয়ে আগের ‘জায়নিস্ট শত্রু’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-সের মতে, এতে আগের তুলনায় ইসরায়েলবিরোধী ভাষার তীব্রতা কমেছে। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলকে এখনো কয়েকটি পাঠে ‘দখলদার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং সৌদি পাঠ্যবইয়ের বেশ কিছু মানচিত্রে দেশটির নাম এখনো অনুপস্থিত।
সৌদি পাঠ্যবইয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ইসলামবহির্ভূত বিশ্বাস নিয়ে কিছু বিষয়ও সংশোধন করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-সের সর্বশেষ পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আগের পাঠ্যবইয়ে অমুসলিমদের পরকালের শাস্তি নিয়ে থাকা কিছু বক্তব্য কমানো বা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে থাকা একটি হাদিসও নতুন সংস্করণে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি এটিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি তুলনামূলক বেশি গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের কয়েকটি পাঠ্যবইয়ে থাকা ইহুদিবিদ্বেষী বিষয়বস্তুর বড় অংশও এখন আর নেই। জিহাদ ও শহীদত্ব নিয়ে সহিংসতাকে উৎসাহিত করা কিছু বিষয়ও পরিবর্তন করা হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-সের ২০২৪-২৬ সালের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সৌদি শিক্ষাক্রমে গত কয়েক বছর ধরে শান্তি, সহাবস্থান, সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান ও উগ্রবাদের বিরোধিতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও জেরুজালেম নিয়ে আগের তুলনায় কঠোর ভাষা কমানো হয়েছে।
তবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি এখনো পাঠ্যবইয়ে স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি। বরং কিছু মানচিত্রে ইসরায়েলের নাম না থাকার পাশাপাশি ‘ফিলিস্তিন’ নামটিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন সংস্করণে আগের অবস্থানের তুলনায় ভাষা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এলেও বিষয়টি পুরোপুরি নতুন কোনো অবস্থান নিয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
ইমপ্যাক্ট-সের এই পর্যালোচনা মূলত সৌদি আরবের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩৬টি পাঠ্যবইয়ের ওপর করা হয়েছে। সংস্থাটি গত কয়েক বছর ধরে দেশটির পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
তথ্যসূত্র: ইমপ্যাক্ট-সে