হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি যুক্তরাজ্য সরকারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় এসব যুদ্ধবিমান প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছেন। […]
ছবি: সংগৃহীত
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি যুক্তরাজ্য সরকারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় এসব যুদ্ধবিমান প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছেন। সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির উপকূলীয় জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হুথিদের হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, মোতায়েন করা যুদ্ধবিমানগুলো প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব পালন করবে। হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর জন্য এগুলো ব্যবহার করা হবে না।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে হুথিরা। সৌদি আরব ওই সরকারকে সমর্থন করে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে উৎখাত করে গোষ্ঠীটি। এরপর থেকে দেশটিতে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর গত সেপ্টেম্বর থেকে হুথিদের হামলা মোকাবিলা এবং নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে চাপের মুখে রয়েছে সৌদি আরব। হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালালে এর জবাবে সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় হুথিরা।
হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের কিং খালেদ বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের হামলায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম ইয়েমেনে সানাসহ হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে চালানো হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭৩ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আতাক শহরের কাছে আল-আলাম শিবির লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। অন্যদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, সৌদি শত্রুপক্ষের সমাবেশকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনে হুথি-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪১ জন নিহত এবং ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন।
হুথিদের হামলা বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, এ মিশনের উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা, সরাসরি আক্রমণ চালানো নয়।