ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্যদেশগুলো। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোমবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনীর রিয়াদে […]
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্যদেশগুলো। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোমবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনীর রিয়াদে পৌঁছেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগ্লুও বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। সৌদি আরবের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তারাও এতে অংশ নিচ্ছেন।
রিয়াদে যাওয়ার আগে ইসহাক দার মদিনায় যান। সেখানে তিনি মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় এবং পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করেন।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
চুক্তির পর থেকেই তিন দেশ সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা বৈঠক করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলার নিন্দা জানান এবং চুক্তির আওতায় সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইয়েমেনভিত্তিক এই গোষ্ঠীর হামলার পর সৌদি আরব পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তুরস্কও জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রয়োজন হলে চুক্তির আওতায় সামরিক সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
তবে এবারের বৈঠকে শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইরান হুথিদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা রিয়াদের বৈঠকে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে দারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রস্তাব নয়; বরং দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনার পর্যায়ের একটি ধারণা।
ইসহাক দার আরও জানিয়েছেন, ইরান হুথি ও ইরাকের মিলিশিয়াদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছে এবং বিষয়টির সমাধান চায়। তিনি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং পাকিস্তানের অবস্থান সম্পর্কেও তেহরানকে অবহিত করেছেন।
সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তান এরই মধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পাশে থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও এর আগে বলেছিলেন, সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন তৈরি হতে পারে এবং চুক্তির আওতায় সেসব প্রয়োজন পূরণে তুরস্ক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ফলে রিয়াদের এই বৈঠককে তিন দেশের নতুন প্রতিরক্ষা জোটের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবকে ঘিরে হুথি হামলার পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে।