প্রায় ১৭ বছর পর সিরিয়া সফরে গেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব দেশটি সফর করলেন। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি তাকে স্বাগত জানান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, […]
প্রায় ১৭ বছর পর সিরিয়া সফরে গেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব দেশটি সফর করলেন। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি তাকে স্বাগত জানান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে তিনি সিরিয়ার অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব, সরকারি কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গুতেরেস নতুন রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। গত বছর ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছেন আল-শারা। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর নতুন সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক স্বীকৃতি।
সিরিয়ায় প্রায় দেড় দশকের সংঘাতে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা এই সফরের মূল গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, সিরিয়াকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাসচিবের সফর সেই প্রচেষ্টারই অংশ।
সফরসূচির অংশ হিসেবে গুতেরেস অধিকৃত গোলান মালভূমিও পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউএনডিওএফের কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং নেবেন।
যদিও সফরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি, কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, তিনি কয়েক দিন সিরিয়ায় অবস্থান করবেন। এ সময় মানবিক পরিস্থিতি, পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়তে শুরু করেছে। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও দেশটি সফর করেন। সেই সফরের সময় রাজধানী দামেস্কে দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার সঙ্গে জড়িত একটি সেলকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের আইএসআইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এনডিটিভি