সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:৩৮ অপরাহ্ন, ২৪ আগস্ট ২০২৬

৩১৫ দিনে ৪ হাজার ৩৭৯ বার ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৩১৫ দিনে ইসরায়েলি বাহিনী ৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসরায়েলি […]

৩১৫ দিনে ৪ হাজার ৩৭৯ বার ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৩১৫ দিনে ইসরায়েলি বাহিনী ৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনী ১৮০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার বা আটক করেছে। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৮ হাজারের বেশি মরদেহ ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ১ হাজার ২৮৬ জন নিহত ও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে ৮১৩টি মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও গোলাবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রতিবেদনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও ৩১৫ দিনে প্রবেশ করেছে ৬৬ হাজার ৬০৭টি, যা নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ।

রাফাহ সীমান্ত দিয়েও যাতায়াত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। চুক্তি অনুযায়ী ২৯ হাজার ৮০০ জনের যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১১ হাজার ৭৫৯ জন সেই সুযোগ পেয়েছেন, যা নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

এদিকে চলমান হামলায় গাজার বেসামরিক অবকাঠামো ও মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা অব্যাহত থাকার কথা উঠে এসেছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর কথিত লঙ্ঘন বন্ধে মধ্যস্থতাকারী ও চুক্তির পক্ষগুলোর কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যদি হামলা, আটক এবং মানবিক সহায়তা ও যাতায়াতে বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকে, তাহলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ