ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) লেনদেন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে জুন মাসে গড়া সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছায়। প্রযুক্তিনির্ভর ন্যাসডাক […]
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) লেনদেন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে জুন মাসে গড়া সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছায়। প্রযুক্তিনির্ভর ন্যাসডাক কম্পোজিট সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ, আর ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ দশমিক ৩ শতাংশ উত্থান নিয়ে ৫৩ হাজার ১৭৮ দশমিক ৪১ পয়েন্টে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বাজারের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলো। মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং অ্যালফাবেটের শেয়ার ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এনভিডিয়ার শেয়ার বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান হয়েছে। তবে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশার প্রভাব পড়ে জ্বালানি বাজারেও। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। তবে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় এবং প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৫ ডলারে লেনদেন হয়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও এশিয়ার কয়েকটি বড় শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক প্রায় ১ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তেহরানকে আরেকটি সুযোগ দিতে চান তিনি। এর আগের দিন তিনি দাবি করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের অনুরোধের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি বড় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকও নির্ধারিত হয়নি।
তিনি জানান, এই মুহূর্তে ওমানের মধ্যস্থতায় কেবল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য বিরোধ ভবিষ্যতে আলোচনার পরবর্তী ধাপে বিবেচনা করা হতে পারে।