ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের তালিকায় রয়েছে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সিআরএসের হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সিআরএস বলেছে, চলমান […]
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের তালিকায় রয়েছে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সিআরএসের হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআরএস বলেছে, চলমান সামরিক অভিযান এবং কিছু তথ্য শ্রেণিবদ্ধ থাকার কারণে উড়োজাহাজ ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি উড়োজাহাজ মেরামতের পর ইতোমধ্যে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনে। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে।
যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে ১২টি এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুলে তিনটি বিমান ধ্বংস হয়। এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হয়।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এসব বিমান আবার সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের তালিকায় আরও রয়েছে একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’, দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’, আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত সাতটি কেসি-১৩৫ এবং নজরদারির জন্য ব্যবহৃত একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ বিমান।
বিশেষ অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআরএস।
হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়। উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ ধ্বংস হয়। এ ছাড়া আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’ বিধ্বস্ত হয়েছে।
সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত বড় সংখ্যায় মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি দেশটির কংগ্রেসের নজরদারিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি উড়োজাহাজ হারানোর কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিদেশে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর বিদ্যমান চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া এসব উড়োজাহাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।