সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম দামে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নড়াইলের কালিয়া এলাকার ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) ও […]
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম দামে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নড়াইলের কালিয়া এলাকার ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) ও শহিদুল শেখ (২৩)। তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ভারতীয় দুটি সিমসহ মোট ৪৬টি সিম কার্ড এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভিন্ন পণ্য ও ইলিশ মাছের ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো সম্পাদনা করে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিত। কম দামের আকর্ষণীয় অফার দেখিয়ে এসব বিজ্ঞাপন বুস্ট করে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো হতো।
ইলিশের পাশাপাশি ফার্নিচার, জুতা, কলম, বেবি টয় ও অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপনও দেওয়া হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভুয়া পরিচয়, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও নকল ভাউচার ব্যবহার করা হতো।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রের সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পণ্য কেনার জন্য অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর আর পণ্য সরবরাহ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিত তারা।
এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় গত ২১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।
পরে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে নড়াইলের কালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৭ সেপ্টেম্বর তাদের চাঁদপুরে নেওয়া হয় এবং ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, একই চক্রের আরও দুই সদস্যকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নতুন চারজনসহ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার নামে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।