যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হলেও, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্বে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের হার আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় কমেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত গবেষণায় অক্টোবর ২০১৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত আইসিইর (ICE) প্রায় ১৬ লাখ গ্রেপ্তারের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। […]
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হলেও, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্বে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের হার আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় কমেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত গবেষণায় অক্টোবর ২০১৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত আইসিইর (ICE) প্রায় ১৬ লাখ গ্রেপ্তারের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মাত্র ৩৪ শতাংশের বিরুদ্ধে পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল। তুলনামূলকভাবে, জো বাইডেনের প্রশাসনের শেষ বছরে এ হার ছিল ৫২ শতাংশ, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে ৭০ শতাংশ এবং বারাক ওবামার শেষ বছরে ৭৯ শতাংশ।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট বলেন, গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করে যে আইসিইর বাস্তব অভিযান প্রশাসনের জনসম্মুখে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষ্য, সরকার গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল না।
তবে গবেষণার এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)। সংস্থাটির এক মুখপাত্র দাবি করেন, আইসিইর গ্রেপ্তার করা অবৈধ অভিবাসীদের প্রায় ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি দণ্ড অথবা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি, গ্যাং সদস্য, সন্ত্রাসী কিংবা ইন্টারপোলের নোটিশভুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও দাবি করে ডিএইচএস।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কমিউনিটি অ্যারেস্ট বা পাড়া-মহল্লা, কর্মস্থল, বিমানবন্দর এবং জনসমাগমস্থল থেকে গ্রেপ্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে মোট গ্রেপ্তারের ১৯ শতাংশ ছিল কমিউনিটি অ্যারেস্ট, যা ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর বেড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশে পৌঁছায়।
এদিকে, ডিএইচএসের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের রেকর্ড গড়ে। ওই মাসে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
তবে গবেষণার লেখকেরা স্পষ্ট করেছেন, তাদের বিশ্লেষণ শুধুমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা বিচারাধীন মামলার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই গবেষণার ফলাফল সেই প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।