বাবার মৃত্যুতে গভীর শোকে আছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি, বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর উৎসাহ এবং জীবনের শেষ সময়ের কথা স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মেসির বাবার অসুস্থতার খবর জানা […]
ছবি: সংগৃহীত
বাবার মৃত্যুতে গভীর শোকে আছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি, বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর উৎসাহ এবং জীবনের শেষ সময়ের কথা স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মেসির বাবার অসুস্থতার খবর জানা গিয়েছিল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মেসি। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে কঠিন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বাবার অসুস্থতা যে তাঁর সেই মানসিক কষ্টের অন্যতম কারণ ছিল, এখন তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাবার মৃত্যুর পর তাঁকে স্মরণ করে মেসি লিখেছেন, এখনো তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তাঁর বাবা আর নেই। বাবাকে আর কখনো দেখা বা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মেসি লেখেন, তিনি জানতেন তাঁর বাবা অনেক কষ্টের মধ্যে ছিলেন। তাই হয়তো এই পরিণতিই তাঁর জন্য ভালো হয়েছে। কিন্তু প্রিয় মানুষটিকে হারানোর আক্ষেপ থেকে গেছে। বাবার উদ্দেশে মেসির আবেগঘন কথা, ‘তুমি বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে উপভোগ করার মতো আরও কত কিছুই তো বাকি ছিল।’
বিশ্বকাপে ছেলের খেলা দেখার জন্য হোর্হে মেসির আগ্রহের কথাও স্মরণ করেছেন মেসি। গত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে বাবা তাঁকে বারবার খেলার জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে।
মেসি জানান, তাঁর বাবা আগে কখনো কোনো টুর্নামেন্টে তাঁর খেলা দেখতে যেতে পারেননি—এমন নয়, বরং সেই সময়টিই ছিল ব্যতিক্রম। মেসির মা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, তাঁর বাবা সুস্থ হয়ে আবার এমন অবস্থায় ফিরবেন, যাতে ভবিষ্যতে ছেলের খেলা দেখতে যেতে পারেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হয়নি।
বাবার স্মৃতিচারণ করে মেসি আরও লিখেছেন, হয়তো তিনি আর বাবাকে সামনে থেকে দেখতে পারবেন না। তবে তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ও স্মৃতির মধ্যেই বাবা বেঁচে থাকবেন।
‘তোমাকে খুব মিস করব, বাবা।’
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস