ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং ডিজেলের সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জরুরি মজুত থেকে হিটিং অয়েল ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার জরুরি হিটিং অয়েল রিজার্ভ থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং ডিজেলের সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জরুরি মজুত থেকে হিটিং অয়েল ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার জরুরি হিটিং অয়েল রিজার্ভ থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকটের মধ্যে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সিনেটররা প্রশাসনকে জরুরি মজুত থেকে হিটিং অয়েল সরবরাহের আহ্বান জানান। এরপর রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রয়োজনে আরও তেল সরবরাহ করা হবে কি না, তা মূল্যায়ন করে দেখবে জ্বালানি বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নর্থইস্ট হোম হিটিং অয়েল রিজার্ভ’ ২০১২ সালে হ্যারিকেন স্যান্ডির আঘাতের পর মাত্র একবার ব্যবহার করা হয়েছিল। নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস ও মেইনের বিভিন্ন স্থানে এই জরুরি মজুত সংরক্ষিত রয়েছে। নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার এবং মেইনের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঘর গরম রাখতে হিটিং অয়েলের ওপর নির্ভরশীল।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে জ্বালানির বাড়তি দাম রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এ নির্বাচনে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স পুনর্নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ের মুখে রয়েছেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপ্পাস ও রিপাবলিকান জন সুনুনুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অন্যদিকে, আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের সঙ্গে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের প্রধান ক্রিস রাইট বলেছেন, জ্বালানির ব্যয় কমাতে প্রশাসন নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সংকটকবলিত এলাকায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিটিং অয়েল ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক নিলাম পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় খুচরা বিক্রেতা ও টার্মিনাল পরিচালনাকারীরা অংশ নিতে পারবেন।
এদিকে, নিউইয়র্ক ও নিউ ইংল্যান্ডের বাড়িঘরে গরম করার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে উইলিয়ামস কোম্পানির ‘কনস্টিটিউশন ন্যাচারাল গ্যাস পাইপলাইন’ প্রকল্পেও সমর্থন দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। প্রকল্পটির মাধ্যমে পেনসিলভানিয়ায় উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস নিউইয়র্ক ও নিউ ইংল্যান্ডে পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ আগে প্রকল্পটি আটকে রেখেছিল। তবে চলতি সপ্তাহে প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোল্ড ওয়ার যুগের ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’-এর তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করেছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মেইন, ম্যাসাচুসেটস ও কানেকটিকাটে সরবরাহের জন্য জরুরি রিজার্ভ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৫ হাজার ব্যারেল হিটিং অয়েল ঋণ দেওয়া হবে। আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে এসব তেল সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণেও চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানা উপকূলে সংরক্ষিত এই কৌশলগত মজুতের পরিমাণ বর্তমানে ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, দৈনিক আমার দেশ