ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব […]
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আবদুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং তৎকালীন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় দেন। ওই রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
পরে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। ২০ আগস্ট শুনানি শেষ হলে ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন আদালত।
হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের দেওয়া রায়কে ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং আসামিদের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাত্রা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা বিচারিক দায়িত্ব পালনে ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে। এ কারণে বিচারক মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলার বিচার ও সাজা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। এসব আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।