রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানাকে (৪৮) মারধর এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান নামে এক যুবককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে সাজা দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় […]
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানাকে (৪৮) মারধর এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান নামে এক যুবককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে সাজা দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত।
আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ জানান, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর ও প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অপরাধের কথা স্বীকার করায় খালিদ হাসানকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই তরুণীর অভিযোগ, শহীদ আবদুল্লাহ তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ বা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছেন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে তাৎক্ষণিক আটক করতে অনীহা দেখালে তরুণী তাঁর মামা খালিদ হাসানকে ফোন করে ডাকেন।
ঘটনাস্থলে এসে খালিদ আইন নিজের হাতে তুলে নেন। তিনি শহীদ আবদুল্লাহকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং কান ধরে ওঠবস করান। পরে পুলিশ শহীদ আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের সময় পুলিশের দুই সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাঁরা নীরব ছিলেন।
এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি আরও দাবি করেন, ওই ব্যক্তি মানসিক রোগে আক্রান্ত। এমবিবিএস পড়ার সময় তাঁর এ সমস্যা দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর সংসারও টেকেনি।
মামার কারাদণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী তরুণী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তাঁকে শ্লীলতাহানি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর মামা নিজেই হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
তরুণীর ভাষ্য, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনেক অনুরোধ করে বলেছিলেন, তাঁকে নিয়ে যেতে, কিন্তু তাঁর মামাকে ছেড়ে দিতে। তাঁর দাবি, তাঁকে রক্ষা করতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওই আচরণ করেছিলেন খালিদ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে নীরব থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনাটি জনসমক্ষে অভিযোগের নিষ্পত্তি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।