পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন—এমন খবর প্রকাশিত হলেও ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে […]
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন—এমন খবর প্রকাশিত হলেও ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মীর আহমাদ বিন কাসেমের বক্তব্যে বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ এলে তা সংশোধন করে হুমায়ুন কবির বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেনজীরের সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর অর্থ বেনজীর এখনও সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন। তাকে নজরদারিতে রাখতে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও রাখা হচ্ছে।
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে কাজ করছে। ইউএইর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সক্রিয় দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই বলেও জানান তিনি। তবে পৃথক ঘটনায় বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং বিশেষ বিবেচনায় বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে সংসদে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ বিষয়ে উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবটি আলোচনার পর সংসদে গ্রহণ করা হয়। স্পিকারও সরকারকে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ দ্রুত সংসদকে জানানোর নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, কাউকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়; প্রত্যেককে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে।
আলোচনায় গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গও তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়া সরকার ত্বরান্বিত করবে।
মীর আহমাদ বিন কাসেমের উদ্দেশে হুমায়ুন কবির বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এ কারণে তাকে শুধু দলীয় পরিচয়ে নয়, একজন বিরোধীদলীয় কর্মী হিসেবেও দেখার কথা জানান তিনি।
বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির তাকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে বেনজীরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।