জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে থাকায় নিউইয়র্ক সিটি নগরজুড়ে বৃক্ষের আচ্ছাদন বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গত আট বছরে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচির ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এবার ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের মোট ভূমির ৩০ শতাংশ এলাকাকে বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নগর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে রোপণ […]
ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে থাকায় নিউইয়র্ক সিটি নগরজুড়ে বৃক্ষের আচ্ছাদন বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গত আট বছরে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচির ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এবার ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের মোট ভূমির ৩০ শতাংশ এলাকাকে বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।
নগর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে রোপণ করা অনেক গাছ এখন পরিণত হয়েছে। এসব গাছ গ্রীষ্মের তীব্র তাপ কমাতে ছায়া দিচ্ছে, বায়ুর মান উন্নত করছে এবং নগরবাসীর জন্য তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। পাশাপাশি বৃক্ষ বৃষ্টির পানি শোষণ করে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শহরের সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।
নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শহরের প্রায় ২৩ শতাংশ এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় রয়েছে। নতুন আরবান ফরেস্ট প্ল্যান অনুযায়ী, এই হার বাড়িয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন গাছ রোপণের পাশাপাশি পুরোনো ও বড় গাছ সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দেওয়া হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেই সব এলাকায়, যেখানে গাছের সংখ্যা কম এবং তাপপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কের নিম্নআয়ের অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত বৃক্ষ না থাকায় সেখানে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হয়। ফলে নতুন কর্মসূচিতে তাপঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বর্তমানে শহরের পার্কে থাকা প্রায় ২০ লাখ এবং সড়কের পাশে থাকা আরও প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার গাছের রক্ষণাবেক্ষণ করে। ২০২৪ অর্থবছরে শহরে ১৮ হাজারের বেশি নতুন গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে শহরের সবচেয়ে তাপঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর উপযুক্ত সব স্থানে নতুন গাছ লাগানোর কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর এলাকায় বৃক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায় না; এটি তাপমাত্রা কমানো, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের বড় শহরগুলো যখন ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন নিউইয়র্কের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।