বাংলাদেশের অন্যতম মহামূল্যবান অবকাঠামো পদ্মা সেতুতে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে চালু হয়েছে ক্যাশলেস এবং টোল কালেক্টরবিহীন ননস্টপ ইলেকট্রনিক টোল আদায় ব্যবস্থা (ETC)। এই নতুন প্রযুক্তি দেশের টোল আদায় প্রক্রিয়াকে করেছে অত্যন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সময় এবং শ্রম উভয়ই বাঁচাবে। ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন কেমন কাজ করে? বর্তমানে পদ্মা সেতুর টোল পরিশোধের জন্য […]
বাংলাদেশের অন্যতম মহামূল্যবান অবকাঠামো পদ্মা সেতুতে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে চালু হয়েছে ক্যাশলেস এবং টোল কালেক্টরবিহীন ননস্টপ ইলেকট্রনিক টোল আদায় ব্যবস্থা (ETC)। এই নতুন প্রযুক্তি দেশের টোল আদায় প্রক্রিয়াকে করেছে অত্যন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সময় এবং শ্রম উভয়ই বাঁচাবে।
ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন কেমন কাজ করে?
বর্তমানে পদ্মা সেতুর টোল পরিশোধের জন্য বিকাশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ট্যাপ অ্যাপ এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারকারী বিকাশ অ্যাপে “টোল” অপশনের মধ্যে গিয়ে “মোটরযান নিবন্ধন করুন” অংশে যানবাহনের নম্বর ও চেসিস নম্বরের শেষ চার অংক দিয়ে সহজেই নিবন্ধন করতে পারবেন। সফল নিবন্ধনের পর একটি ইকপাস আইডি (Ekpass ID) এসএমএসের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।
এরপর এই ইকপাস আইডি ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাপ থেকে “বিল পরিশোধ” সেকশনের “ডি-টোল টপ-আপ” এর মাধ্যমে টোল ফি রিচার্জ করতে হবে। এরপর পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার পাশে অবস্থিত নিবন্ধন বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি ট্যাগ যাচাই ও নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। একবার নিবন্ধন শেষ হলে যানবাহনটি ইটিসি লেন ব্যবহার করে ঘণ্টায় কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পার হতে পারবে, যেখানে টোল পরিশোধ হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও সাফল্যের গল্প
২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাস্ট ব্যাংকের ট্যাপ অ্যাপের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর ইটিসি ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এই সেবার পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৮১৪টি যানবাহন ইটিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে সেতু পারাপার হয়েছে এবং মোট ৩৪ লাখ ৯১ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারের দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর নির্দেশনায় এই প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের টোল আদায় ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন, যা সময়, জ্বালানি ও মানবসম্পদের অপচয় কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের সেবার মানও বৃদ্ধি করবে।
ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন আর্থিক অ্যাপ্লিকেশন এই সেবার আওতায় যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই (a2i) কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
পদ্মা সেতুতে এই ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থার চালু হওয়া দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য এক নতুন মাইলফলক। এটি শুধু যানবাহন চলাচলের গতি বাড়ায়নি, বরং টোল আদায় ব্যবস্থাকে করেছে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও জনবান্ধব। এছাড়াও, যানজট কমানো, দূষণ হ্রাস এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে এর অবদান অস্বীকার করার নয়।
যারা নিয়মিত পদ্মা সেতু পারাপার করেন, তাদের জন্য এটি সময় ও খরচের সাশ্রয় নিশ্চিত করেছে। সেতুর কার্যকর ব্যবস্থাপনায় এই ডিজিটাল প্রযুক্তি দেশের অন্যান্য সেতু ও মহাসড়কেও প্রয়োগের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে।