সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৬:২৬ অপরাহ্ন, ৮ অক্টোবর ২০২৬

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার

দেশের ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চার লাখ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের হাতে থাকা তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, […]

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

দেশের ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চার লাখ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের হাতে থাকা তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বাসার ঠিকানা, অবস্থান ও ফেসবুক পরিচিতিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক তথ্য রয়েছে।

তবে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত তথ্য ফাঁসের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাঠাও জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে অ্যাকসেস করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে।

সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি প্রকাশ করে। সেখানে ডার্ক ওয়েবে দেওয়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশটও তুলে ধরা হয়। ওই পোস্টে সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, পাঠাওয়ের বিপুল পরিমাণ তথ্য তাদের হাতে রয়েছে এবং অর্থ না পেলে এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ঘটনা শনাক্তের কথা স্বীকার পাঠাওয়ের

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পাঠাও বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে অ্যাকসেস করার ঘটনা তারা শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে।

পাঠাও জানায়, ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই তা নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত ধরন, তথ্যের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে সার্বিক তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গত ৪ অক্টোবর তাদের প্ল্যাটফর্মের সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। সেদিন সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা এবং সিস্টেমের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে অফলাইনে নেওয়া হয়।

এর ফলে পাঠাওয়ের বিভিন্ন সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরে দ্রুত সেবাগুলো আবার চালু করা হলেও পুরো সিস্টেমকে স্থিতিশীল করার কাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে ব্যবহারকারীরা সাময়িকভাবে কিছু কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে বুধবার পাঠাওয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতেও ৪ অক্টোবরের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হয়। তবে সিস্টেমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

১৩৩ গিগাবাইট তথ্য থাকার দাবি

ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত পোস্টে সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড এবং ৫৯১টি তথ্যভান্ডার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের হাতে থাকা সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি এনআইডি নম্বর ও মুঠোফোন নম্বর, ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য এবং প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি থাকার কথাও দাবি করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা তাদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। এসব তথ্য সত্য হলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে ডার্ক ওয়েবে করা এসব দাবির সব কটি তথ্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ব্যবসায়িক ও অভ্যন্তরীণ তথ্যও হাতিয়ে নেওয়ার দাবি

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবিও করেছে সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীটি।

তাদের পোস্টে বলা হয়েছে, এসব তথ্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যাংকের শাখা শনাক্তকরণ নম্বর রয়েছে। এ ছাড়া অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং চালকদের যাত্রার নথিও তাদের সংগ্রহে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গোষ্ঠীটি এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে চার লাখ মার্কিন ডলার চেয়েছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে এনআইডি, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অর্থ দাবির বিষয়টি এবং গোষ্ঠীটির কাছে বর্ণিত সব তথ্য বাস্তবে রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। পাঠাওয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতেও চার লাখ ডলার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের পরামর্শ

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা পাঠাওয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, তথ্যের ধরন এবং কতটা তথ্য অননুমোদিতভাবে অ্যাকসেস করা হয়েছে, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত সার্ভার, অ্যাকসেস লগসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ডিজিটাল আলামতের সুরক্ষা, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

পাঠাওয়ের পক্ষ থেকে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে অ্যাকসেস হওয়ার কথা স্বীকার করা হলেও ডার্ক ওয়েবে দাবি করা বিপুল পরিমাণ তথ্যের সম্পূর্ণতা, সেগুলোর প্রকৃত পরিমাণ এবং সব তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে ঘটনার প্রকৃত ব্যাপ্তি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ