বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিতে এবার সরব হয়েছেন বর্তমান ও সাবেক একাধিক তারকা ফুটবলার। বিভিন্ন কনফেডারেশনের আস্থা হারানোর পর খেলোয়াড়দের প্রকাশ্য বিরোধিতায় ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সম্প্রতি ‘ফিফা প্লেয়ার্স ভয়েস প্যানেল’-এর পক্ষ থেকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার […]
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিতে এবার সরব হয়েছেন বর্তমান ও সাবেক একাধিক তারকা ফুটবলার। বিভিন্ন কনফেডারেশনের আস্থা হারানোর পর খেলোয়াড়দের প্রকাশ্য বিরোধিতায় ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি ‘ফিফা প্লেয়ার্স ভয়েস প্যানেল’-এর পক্ষ থেকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভেস্ত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে।’
সিলভেস্ত্রের এই বার্তাকে সমর্থন জানিয়ে তা শেয়ার করেছেন ইংল্যান্ড নারী দলের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন লুসি ব্রোঞ্জ এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সদস্য এমানুয়েল পেতিত। তাদের পাশাপাশি আরও কয়েকজন পরিচিত ফুটবলারও এই উদ্যোগের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
এমানুয়েল পেতিত ও মিকায়েল সিলভেস্ত্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলার বিশেন্তে লিজারাজু, রবার্ট পিরেস, দিদিয়ের দ্রগবা, এমানুয়েল আদেবায়োর, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, ক্লদিও পিজারো, লুসি ব্রোঞ্জ এবং ব্রায়ানা স্কারিসহ আরও অনেকে।
যৌথ বিবৃতিতে ফুটবলাররা বলেন, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের মতো তারাও ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফুটবল তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মতামত এবং স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতা তাকে অন্ধ করে দিয়েছে। নিজস্ব স্বার্থ এবং ফুটবলের জন্য যা সর্বোত্তম, তার মধ্যে পার্থক্য করার সামর্থ্যও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।’
ফিফার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার একটি পরিকল্পনাও করেছিলেন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারত্ব ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের এই উদ্যোগ নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়।
পরিকল্পনাটির বিরুদ্ধে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনসহ ইউরোপীয় ফুটবল নেতৃত্বের একটি অংশ জোরালো অবস্থান নেয়। তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।
সাম্প্রতিক এই বিবৃতিতে ফুটবলাররা বিশ্বের সব অংশীজনকে ফুটবল রক্ষায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, খেলোয়াড়, সমর্থক, ক্লাব, ফেডারেশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে বসে ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রূপরেখা তৈরি করতে হবে।
ফিফার সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও সমালোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান ও সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের এমন প্রকাশ্য ও সমন্বিত অবস্থানকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি ভবিষ্যতে আরও জোরালো হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।