দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করছে এবং এ কারণে প্রধানমন্ত্রীও জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে […]
দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করছে এবং এ কারণে প্রধানমন্ত্রীও জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় না থাকলেও মানুষ এতে কষ্ট পাচ্ছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর আগে ‘আগের সরকারের রেখে যাওয়া পরিস্থিতি’ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের এই সময়ের কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ন করছেন। ভবিষ্যতে প্রতি ছয় মাস পরপর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর সরকারকে জনগণের কাছে গিয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডের হিসাব দিতে হবে। কোন ক্ষেত্রে কী করা হয়েছে এবং কোন প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার ধারণা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি কার্যকর নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে সরকারের সঙ্গে জনগণের নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আগের সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহির প্রয়োজন অনুভব করেনি। তার দাবি, ভোটের ব্যবস্থা সঠিক থাকলে সরকারগুলো সবসময় জনগণের কথা বিবেচনায় রাখতে বাধ্য হয়।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে কখনো ভোটার হিসেবে যথাযথ গুরুত্ব দেননি। জনগণের সামনে একদিন জবাবদিহি করতে হবে—এমন রাজনৈতিক উপলব্ধি থাকলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের শিশু-কিশোরদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। তাই শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে তাদের সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশের শিশু-কিশোররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
প্রচলিত সার্কাস ও যাত্রাপালার নেতিবাচক দিকগুলো বাদ দিয়ে এগুলোকে আবারও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক ও কালচারাল কর্মকর্তারা অংশ নেন।
তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক