ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনার প্রতিবাদে আসন্ন বিশ্বকাপসহ সব ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সংস্থাটির ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম রয়টার্স, এপি ও দ্য গার্ডিয়ান নিশ্চিত […]
ছবি: সংগৃহীত
ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনার প্রতিবাদে আসন্ন বিশ্বকাপসহ সব ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সংস্থাটির ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম রয়টার্স, এপি ও দ্য গার্ডিয়ান নিশ্চিত করেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (FFE)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করে এর ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। এ প্রতিষ্ঠানের অধীনেই ভবিষ্যতে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উয়েফা এই পরিকল্পার তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং ফুটবলের ঐতিহ্য কখনোই ব্যক্তিমালিকানার হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় ফুটবল সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা করা হয়নি।
বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা হলে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ না নেওয়ার নিশ্চয়তা না দেওয়া হলে তাদের সদস্য দেশগুলো ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, সামনে ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে পুরুষদের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উয়েফার বয়কট কার্যকর হলে এই টুর্নামেন্টগুলোর আয়োজন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ফিফার প্রস্তাবটি এখনো সদস্য দেশগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তবে ইউরোপের ৫৫টি দেশের একযোগে বিরোধিতায় বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।