সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১২:৪৬ অপরাহ্ন, ১৮ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে আবদুল এল সাইদ

মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আবদুল এল সাইদ। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর। আগস্টের শুরুতে মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয় ভাষণে নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন ৪১ বছর বয়সী […]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে আবদুল এল সাইদ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আবদুল এল সাইদ। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর।

আগস্টের শুরুতে মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয় ভাষণে নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন ৪১ বছর বয়সী এল সাইদ। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই রাজনীতিক বলেন, তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো তারও মিশরে ট্যাক্সি চালক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বাবা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে আসায় তার জীবনের গতিপথ বদলে যায়।

আবদুল এল সাইদের পরিচয় শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিক হিসেবে নয়। সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অবস্থান, রাজনৈতিক অর্থায়নে সংস্কারের দাবি এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা তাকে মিশিগানের রাজনীতিতে আলোচিত করে তুলেছে। তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম মূল বক্তব্য ছিল—রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ ও সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিরও সমালোচনা করেছেন এল সাইদ। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ভোটারদের একটি অংশ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের বিরোধিতাও তার রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সহায়তার সমালোচনা করে তিনি এটিকে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অন্যতম খারাপ উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন ছাড়াই মনোনয়ন

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এল সাইদ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড় ধরনের সমর্থন পাননি। এ কারণে তাকে অনেকেই ‘আউটসাইডার’ বা বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে দেখেছেন।

তবে তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী প্রগতিশীল নেতা বার্নি স্যান্ডার্স ও আলেক্সান্দ্রিয়া ওসিও-কর্টেজ। শেষ পর্যন্ত তিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পান এবং নভেম্বরে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পান।

২০১৮ সালেও গভর্নর পদে লড়েছিলেন

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে এল সাইদের সক্রিয় উপস্থিতি শুরু হয় ২০১৮ সালে। সে বছর তিনি মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও জয় পাননি, তিনি মোট ভোটের ৩০ শতাংশের বেশি পেয়েছিলেন।

সেই নির্বাচনের প্রচারণাতেও স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানো ছিল তার প্রধান অঙ্গীকার।

তবে রাজনীতিতে আসার পেছনে ২০০৭ সালের একটি ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ওই বছর মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন এল সাইদ। বক্তব্যের পর ক্লিনটন প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেন এবং পরে ব্যক্তিগতভাবেও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এর প্রায় এক দশক পর, ২০১৭ সালে, মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন এল সাইদ। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ডেট্রয়েটের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের পদ ছেড়ে দেন।

জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবেও আলোচিত

২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েটের পাবলিক হেলথ বিভাগের পরিচালক হন এল সাইদ। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের এমন পদে থাকা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি ছিলেন।

দায়িত্ব পালনকালে শিশু মৃত্যুহার কমানো, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চশমা দেওয়া এবং শতাধিক স্কুলে সীসার উপস্থিতি পরীক্ষা করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির মধ্যেও তিনি ব্যাপক সমর্থন পান।

ইসরায়েল নিয়ে অবস্থান ঘিরে বিতর্ক

২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় এল সাইদ নিজেকে করপোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একজন শ্রমজীবী মানুষের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলপন্থী অর্থদাতা এবং দলীয় রাজনীতির প্রচলিত কাঠামোর সমালোচনাও করেছেন।

তার ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাকে আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্প এল সাইদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাবের অভিযোগ তুলেছেন এবং তার ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেছেন।

এল সাইদের প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, রাজনৈতিক অর্থায়ন সংস্কার এবং সামরিক সহায়তার বিষয়ে অবস্থান যেমন সমর্থন তৈরি করেছে, তেমনি তার কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান শিবির তার পুরোনো কিছু বক্তব্য সামনে এনে তাকে আক্রমণ করছে।

ঐতিহাসিক সুযোগের সামনে

এখন এল সাইদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মিশিগান সিনেট নির্বাচন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান মাইক রজার্স। নির্বাচনী লড়াইটি ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ মিশিগান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্য এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণের সমীকরণেও এ আসন গুরুত্বপূর্ণ।

জয় পেলে শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। কারণ এল সাইদই হবেন দেশটির প্রথম মুসলিম সিনেটর—এমন একটি সম্ভাবনা এখন তাকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রার্থীতে পরিণত করেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ