যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা বাড়তে পারে। খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসএসএ) নিয়ম অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সুবিধাভোগীদের ভাতাতেও সমন্বয় করা হয়। এই বার্ষিক সমন্বয়কে বলা হয় কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা বাড়তে পারে। খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসএসএ) নিয়ম অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সুবিধাভোগীদের ভাতাতেও সমন্বয় করা হয়। এই বার্ষিক সমন্বয়কে বলা হয় কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা সিওএলএ।
প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণ করে এসএসএ। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গড় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতা প্রায় ২ হাজার ১৫ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭২ ডলারে দাঁড়ায়।
২০২৭ সালের সিওএলএ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসএসএ আগামী অক্টোবর মাসে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রবণতার ভিত্তিতে বিভিন্ন পূর্বাভাসে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিওএলএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স বা সিপিআই-ডব্লিউয়ের তথ্য ব্যবহার করা হয়। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মূল্যসূচকের পরিবর্তন হিসাব করে এই সমন্বয় নির্ধারণ করা হয়।
চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সিওএলএ নির্ধারিত হওয়ার পর সাধারণত নতুন হারে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পরবর্তী বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে একই পরিমাণ সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি ও আবাসনের মতো খাতে ব্যয় বাড়লে অবসরপ্রাপ্ত ও অন্যান্য সুবিধাভোগীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ে।
এই কারণে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সিওএলএ নির্ধারণ করা হয়। তবে ভাতা বাড়লেই সুবিধাভোগীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা একই হারে বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যয়ের বিভিন্ন খাতে দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে অতিরিক্ত ভাতার বড় অংশ সেসব খাতেই ব্যয় হয়ে যেতে পারে।
সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই সুবিধাভোগীরাও সাধারণত একই সিওএলএ সমন্বয়ের আওতায় থাকেন। তবে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই আলাদা কর্মসূচি। এ দুই কর্মসূচির অর্থায়ন, যোগ্যতা এবং সুবিধা পাওয়ার নিয়মও ভিন্ন।
২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি বা এসএসআই সুবিধা, অথবা উভয় কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে ২০২৭ সালের সিওএলএর সিদ্ধান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের মাসিক আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বর্তমানে আলোচিত ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির হার এখনো চূড়ান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্যসহ প্রয়োজনীয় হিসাব শেষ করার পরই এসএসএ ২০২৭ সালের প্রকৃত সিওএলএ ঘোষণা করবে।
ফলে আগামী বছর সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীরা ঠিক কত অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা নিশ্চিতভাবে জানতে অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।