জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ছবি শেয়ার করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। পোস্টে সারজিস দাবি করেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বুঝতে পেরে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের সক্ষমতা হারিয়েছে। সেই উপলব্ধি […]
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ছবি শেয়ার করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
পোস্টে সারজিস দাবি করেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বুঝতে পেরে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের সক্ষমতা হারিয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই দলটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে জামিন, সুযোগ-সুবিধা ও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, প্রশাসনের একটি অংশ এবং দেশি-বিদেশি কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী একসঙ্গে মিলে নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করে, এমনকি কোথাও কোথাও ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে সরকার গঠনের পথ তৈরি করে।
আরও কঠোর ভাষায় সারজিস লেখেন, যে দলটি পরিকল্পিতভাবে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, সেই দলের রাষ্ট্রপতিকে সঙ্গে নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আসলে সেই নির্মম ঘটনার প্রতি উপহাসের শামিল।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগই একসময় তারেক রহমানকে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করেছিল, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করেছিল এবং বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল। অথচ আজ সেই দলটির পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি—যা রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সারজিস আলম হুঁশিয়ার করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা আবার আওয়ামী লীগের নিপীড়নের শিকার হন, তার দায় নিতে হবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে। একইভাবে, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর যদি কোনো হামলা হয় বা রক্ত ঝরে, তার দায়ও বর্তাবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ওপর।
সবশেষে তিনি এই রাজনৈতিক সমঝোতাকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ধিক্কার জানান।