দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন করে মৃত সাত শিশুর কারও ক্ষেত্রে পরীক্ষায় […]
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে।
বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন করে মৃত সাত শিশুর কারও ক্ষেত্রে পরীক্ষায় সরাসরি হাম নিশ্চিত না হলেও তারা সবাই হামের উপসর্গে আক্রান্ত ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১১ শিশু। এছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯০ জন। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৬০১।
একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৬৫ শিশু হাম বা হামের মতো উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ২১০ জন বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালগুলোতেও চাপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যদিও একই সময়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১৩০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী ৯ হাজার ১৯১ জন।
এই সময়ে মোট ৬০ হাজার ১৫৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ হাজার ৯৪২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং গ্রামাঞ্চলে দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। তারা অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।