যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন বিধির প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) এ প্রস্তাব প্রকাশ করে। প্রস্তাবিত বিধিতে চার ধরনের ব্যক্তিগত আয়কর সুবিধার রিফান্ডযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডপশন […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন বিধির প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) এ প্রস্তাব প্রকাশ করে।
প্রস্তাবিত বিধিতে চার ধরনের ব্যক্তিগত আয়কর সুবিধার রিফান্ডযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, আমেরিকান অপারচুনিটি ট্যাক্স ক্রেডিট এবং আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট।
রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিটের ক্ষেত্রে কোনো করদাতার প্রাপ্য সুবিধার পরিমাণ তার ফেডারেল আয়কর দায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে ফেরত পাওয়া যায়। নতুন প্রস্তাবে এই ফেরতযোগ্য অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন ন্যাশনাল এবং আইনে নির্ধারিত যোগ্য অ-নাগরিকরা এসব সুবিধার রিফান্ডযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগ্য অ-নাগরিকদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং ১৯৯৬ সালের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অন্যান্য শ্রেণির মানুষ থাকবেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন বিধি কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিরা মার্কিন করদাতাদের অর্থে অর্থায়িত এসব সুবিধার রিফান্ডযোগ্য অংশ নিতে পারবেন না। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, যারা আইনের দৃষ্টিতে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের জন্য করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের ভাষ্য, প্রস্তাবিত বিধির মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইনে ফেডারেল সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতার বিধান আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
তবে প্রস্তাবটি পুরো ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিল করছে না। কোনো ব্যক্তি রিফান্ডযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য না হলেও নির্দিষ্ট ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবহার করে তার ফেডারেল আয়কর দায় কমানোর সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ নতুন বিধির মূল লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্যতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা।
নতুন বিধি চূড়ান্ত হওয়ার পর যেসব করবর্ষ শেষ হবে, সেসব করবর্ষের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। আগামী ১৪ অক্টোবর প্রস্তাবটি নিয়ে একটি শুনানিরও আয়োজন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিধির ফলে প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ করদাতা রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। তবে এর ফলে করদাতাদের অর্থ থেকে ঠিক কতটা সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব দিতে প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
সরকারের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিধির আওতায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স সুবিধার পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলার হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য অযোগ্য সুবিধার আনুমানিক পরিমাণ; সরকারের প্রকৃত সাশ্রয়ের হিসাব নয়।
এই উদ্যোগের সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা একটি নির্বাহী আদেশেরও সম্পর্ক রয়েছে। ওই আদেশে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে—এমন কর্মসূচি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ফেডারেল সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জনমত ও শুনানির পর অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএস চূড়ান্ত বিধি জারি করবে। তখনই জানা যাবে, নতুন নিয়মটি ঠিক কীভাবে এবং কোন করদাতাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়, আইআরএস